প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি : সংগৃহীত পোশাকশ্রমিকদের বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার উদ্যোগী হয়েছে সরকার। শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে রোববার কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতায় করণীয় ঠিক করতে সচিবালয়ে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে রোববার দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন শ্রমমন্ত্রী। রোববার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন।
এ সময় শ্রমমন্ত্রী বলেন, সরকার আগেই সংবাদমাধ্যম এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছিল। এরপরও শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মজুরি বোর্ডে যারা থাকছেন
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত নতুন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে।
বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব মো. আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি করা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনকে।
এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে রয়েছেন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
মিরপুরে সংঘর্ষ, অব্যাহত শ্রমিক বিক্ষোভ
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। সরকারের পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
রোববার রাজধানীর মিরপুর- ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
সময়ের আলো/এসকে