প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম
যশোর অঞ্চল থেকে কীভাবে এটি জাবিতে পৌঁছাল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। ছবি : সংগৃহীতজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছে যশোরের হনুমান নামে পরিচিত নর্দার্ন প্লেইন্স ল্যাঙ্গুরের। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের (ডব্লিউআরসি) কাছে প্রাণীটিকে দেখতে পান কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে যশোর অঞ্চল থেকে কীভাবে এটি জাবিতে পৌঁছাল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসাইন সুমন জানান, দুপুর ১২টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ডব্লিউআরসি হয়ে মনপুরা এলাকায় যাওয়ার পথে তারা হনুমানটি দেখতে পান। এ সময় সেটির ভিডিও ধারণ করেন তারা।
জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ. খান জানান, ক্যাম্পাসে আগে কখনো ল্যাঙ্গুর বা হনুমান দেখা যাওয়ার তথ্য নেই। প্রাণীটি নর্দার্ন প্লেইন্স ল্যাঙ্গুর (Semnopithecus entellus), যা বাংলাদেশে যশোরের হনুমান নামে পরিচিত।
তার ধারণা, খাবার বা ফলবাহী কোনো ট্রাকে চড়ে প্রাণীটি জাবি ক্যাম্পাসে এসে থাকতে পারে। এ ধরনের ল্যাঙ্গুর অনেক সময় চলন্ত ট্রাকে উঠে দূরবর্তী এলাকায় চলে যায়। সম্প্রতি মোংলাতেও এই প্রজাতির একটি হনুমানের দেখা মিলেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় লাল তালিকায় বিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত এই প্রাণী বৃহত্তর যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর এলাকায় বেশি দেখা যায়। আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্যসংকট ও মানুষের সঙ্গে সংঘাত এদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি।
এদিকে জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. মো. কামরুল হাসান প্রাণীটিকে উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য তার দলকে নির্ধারিত এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে হনুমানটি উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন।
সময়ের আলো/এমকে