ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

৩০ লাখ শহীদকে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ৭:৩১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 104

ছবি পিআইডি

ছবি পিআইডি

১৯৭১ সালে ৯ মাস ব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশে ৩০ লাখ গণশহীদদের চিহ্নিত করা এখনো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশে ৩০ লাখ বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তথ্য সংগ্রহ করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে চলেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে অসীম কুমার উকিলের (নেত্রকোনা-৩) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেইজ প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছে। এছাড়া কেউ যদি বাদ পড়েন তার জন্য আমরা আবারো যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। ওই কার্যক্রম সমাপ্ত হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। ওই তালিকার অংশ হিসেবে বর্তমানে মোট ৫ হাজার ৭৯৫ জন শহীদ বীর মুক্তি যোদ্ধার নাম, ঠিকানা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে গেজেটভুক্ত সশস্ত্র বাহিনী শহীদ এক হাজার ৬২৮ জন, গেজেটভুক্ত বিজিবি শহীদ ৮৩২ জন এবং গেজেটভুক্ত শহীদ পুলিশ ৪১৩ জন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগিদের দ্বারা নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত গণকবরসমূহ সংরক্ষণ করার আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি জেলার ৬৫টি স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় ৩৪২টি স্মৃতিস্তম্ভ মেরামত ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান, মুক্তিযুদ্ধকালীন মিত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদানকে চিরম্মরণীয় করে রাখার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশুগঞ্জে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালে নৃশংসভাবে হত্যার পরে দেশে চলতে থাকা অপশাসন এবং দেশ পরিচালিত হয় স্বাধীনতা বিরোধীদের দ্বারা। এর পরে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নানা ভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে নতুন পাঠ্যসূচি প্রণয়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মুনতাসির মামুন, লেখক ও অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবির, লেখিকা সেলিনা হোসেনসহ প্রতিথযশা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

গণফোরামের মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ২০০৮ সালের সাড়ে ৪ কোটি থেকে বর্তমানে (এপ্রিল ২০১৯) ১৬ কোটি ৫ লাখে উন্নীত হয়েছে। একই সময় ইন্টারনেট গ্রাহক ৬০ লাখ থেকে ৯ কোটি ৩৭ লাখে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ১২ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে। গত ১৯ মে হতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশকে পেছনে ফেলে ২০১৮ সালে ১১৫তম অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]