সাড়ে ৬ বছরে ১৮৫ বাংলাদেশি নিহত

আলমগীর হোসেন

জাতীয়

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিগত সাড়ে ছয় বছরে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে ১৮৫ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

2022-07-22T02:57:26+00:00
2022-07-22T02:57:26+00:00
 
  রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সাড়ে ৬ বছরে ১৮৫ বাংলাদেশি নিহত
সীমান্তে বিএসএফের গুলি
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০২২, ২:৫৭ এএম 
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিগত সাড়ে ছয় বছরে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে ১৮৫ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে চলতি বছরে জুলাইয়ের এই সময় পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হন। নিহত এসব বাংলাদেশিরা স্থানীয় কৃষিসহ বিভিন্ন কাজ করার কথা জানা গেলেও খোদ বিএসএফ মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং বলেছেন, ‘নিহত বাংলাদেশি সবাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত।’ বিএসএফের ওপর হামলা হলেই গুলি চালানো হয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন মহলে।

মানবাধিকারকর্মী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, আইন অনুসারে বিচারে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলার সুযোগ না থাকলেও বিএসএফ প্রধান বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের ঢালাওভাবে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের অপরাধ ঢাকার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। ঢাকায় এসে ৫২তম সীমান্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং ওই মন্তব্য করেন। পঙ্কজ কুমার সিং বলেছেন, ‘নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে মধ্যরাতে বা ভোর রাতে। বিএসএফ সদস্যরা যখন হামলার শিকার হয় তখনই তারা গুলি করে।’

মানবাধিকার সংস্থা-আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে চলতি জুলাই পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ১৮৫ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চলতি বছরে জুলাই পর্যন্ত পাঁচজন, ২০২১ সালে ১৭ জন, ২০২০ সালে নিহত ৪৯ জন, ২০১৯ সালে ৪৩ জন, ২০১৮ সালে ১৫ জন, ২০১৭ সালে ২৫ জন এবং ২০১৬ সালে ৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

জানা গেছে, প্রতিবছরই সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে হত্যা বন্ধে জোরালো আলোচনা করা হলেও সেটি ততটা বাস্তবায়ন হয় না। আসকের পরিসংখ্যান অনুসারে বিভিন্ন বছরে নিহতের সংখ্যা কম-বেশি হলেও সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। যদিও গতকাল বৃহস্পতিবার সীমান্ত সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বলেছেন, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়টি সীমান্ত সম্মেলনে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আমরা তুলে ধরেছি। বিএসএফ প্রতিনিধিদল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। আমরা সম্মত হয়েছি যে, সীমান্তে হত্যা কমানো নয়, শূন্যের কোটায় আনা হবে। তবে চলতি বছরেও পাঁচজন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এই যৌথ সংবাদ সম্মেলনেই বিএসএফের মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং বলেছেন, ‘নিহতরা সবাই অপরাধী বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন সময়ের আলোকে বলেন, বাংলাদেশে বিএসএফ-বিজিবির যে বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে নৃশংস হত্যার শিকার বাংলাদেশিদের ঢালাওভাবে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে মূল ঘটনাকে আড়ালের চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। কেননা, আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকেই অপরাধী হিসেবে বলার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমরা বিগত ১০ বা ৫ বছরের ঘটনায় দেখেছি যে, একজন কিশোরকে পর্যন্ত গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, একজন নারীকে (ফেলানী) হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটা জিনিস খুব স্পষ্ট, বিএসএফ মহাপরিচালকের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সত্যকে আড়াল করার একটি প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এসে এই ধরনের বক্তব্য দুঃখজনক, অগ্রহণযোগ্য।

একই প্রসঙ্গে অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ সময়ের আলোকে বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য নীতিগতভাবে যে সিদ্ধান্ত আমরা দেখছি সেটা অবশ্যই সার্থক। তবে সীমান্তে সত্যিই সত্যিই হত্যা বন্ধ করতে চাইলে সেই নীতিগত সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বন্ধ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করা বিএসএফ-বিজিবি সদস্যদের মধ্যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। অপরাধী সব এলাকাতেই আছে। ফলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঠ পর্যায়ে অঞ্চলভেদে অপরাধীদের আনাগোনা বা অপরাধ দমনের বিষয়ে সেখানে উভয়পক্ষ থেকে একটি কৌশল তৈরি করতে হবে। এই কৌশল না থাকার অজুহাতে মানুষের উপরে অহেতুক গুলি ছোঁড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। উনি (বিএসএফ মহাপরিচালক) নিজেদের বিষয়টিকে ঢাকতে চেয়েছেন। অপরাধ সব জায়গায় আছে। সেই অপরাধকে দমন করে যাতে মানুষ হত্যার শিকার না হন সেটির জন্যই কৌশল তৈরি করে কাজ করতে হবে।

/এসকে


  বিষয়:   বিএসএফের গুলি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: