ঈদ এলেই জমজমাট হয় সিনেমাঙ্গন। আগামী বৃহস্পতিবার কুরবানির ঈদ। এই উৎসবে প্রতি বছরের মতো এবারও বিগ বাজেটের ৫টি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ঈদের সিনেমা মুক্তি দেওয়ার জন্য হল মালিকরা ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছেন। প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহের সামনে ঝুলছে পোস্টার-ব্যানার।
সিনেমাগুলো হচ্ছে- হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘প্রিয়তমা’, রায়হান রাফি পরিচালিত ‘সুড়ঙ্গ’, সৈকত নাসির পরিচালিত ‘ক্যাসিনো’, চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‘প্রহেলিকা’ ও বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘লাল শাড়ি’। একসঙ্গে এত সিনেমা মুক্তি দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত হল নেই দেশে। বর্তমানে সিঙ্গেল স্ক্রিন চালু রয়েছে প্রায় ৪৫টি এবং ব্লকবাস্টার ও সিনেপ্লেক্সের সংখ্যা ২১টি। সব মিলিয়ে ৬৬টি হল চালু রয়েছে।
ঈদকে ঘিরে বন্ধ থাকা অনেক হলই চালু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঈদে হল সংখ্যা বেড়ে দেড় শতাধিক হতে পারে। কিন্তু ৫টি সিনেমা মুক্তি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সিনেমা হল না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ঈদের সিনেমার নির্মাতা ও প্রযোজকরা। তাই বাধ্য হয়েই প্রথমে অল্প সংখ্যক সিনেমা হলে ছবি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ঈদের ছবির প্রযোজনা সংস্থাগুলো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের সিনেমার মধ্যে শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। শাকিবের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রেন্টাল দিয়ে হল বুকিং করা হচ্ছে এ সিনেমার।
ধারণা করা হচ্ছে, ১০০টিরও অধিক সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের মধ্যে দারুণ আগ্রহ তৈরি করেছে। এই সিনেমার ‘কুরবানি’ গানটি ৫ মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়েছে। সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে দেখা যাবে কলকাতার ইধিকা পালকে। এবারের ঈদে নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশোর প্রথম সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’ মুক্তি পাচ্ছে। সিনেমাটি একসঙ্গে কলকাতার প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পাবে। নির্মাতা রাফি জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে অল্প সংখ্যক হল দিয়েই সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে হল সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথমবারের মতো ‘ক্যাসিনো’ জুটি হয়ে আসছেন নিরব ও বুবলী। সিনেমাটি কয়টি হলে মুক্তি দেওয়া হবে, এখন পর্যন্ত প্রযোজনা সংস্থা জানায়নি। দীর্ঘদিন পর ‘প্রহেলিকা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। আর এ সিনেমার নায়িকাও বুবলী। এই সিনেমাটিও ২০টির অধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে।
চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস প্রযোজিত ‘লাল শাড়ি’ মুক্তি পাচ্ছে ঈদে। বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত এ সিনেমাটি সরকারি অনুদানে নির্মিত। এই সিনেমায় অপু বিশ্বাসের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক। প্রায় ৩০টি হলে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে সিনেমাটি।
নব্বই দশকে দেশে হলের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৫টির মতো। দেশে ২৫টি জেলায় এখন আর কোনো সিনেমা হল নেই। প্রযোজক, পরিবেশক ও প্রদর্শক সমিতির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলায় বিশের অধিক সিনেমা হল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে দেশে হল সংখ্যা কমতে শুরু করে এখন শূন্যের কোটায়। সিনেমা হল সংখ্যার অন্যতম কারণ হিসেবে অনেকে উল্লেখ করেছেন, সিনেমার গল্প, চলচ্চিত্র শিল্পী সংকটসহ চলচ্চিত্রের বিভাজন ও সিনেমা নির্মাণ কম হওয়ার কারণে হল সংখ্যা কমে গেছে। সিনেমা হলে নতুন সিনেমা মুক্তি দিতে না পারায় হল মালিকরা হল ক্রমশ বন্ধ করে দিয়ে মার্কেট নির্মাণ করেছেন।
প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘বছরে দুই-তিনটি সিনেমা ভালো চললে তো সিনেমা হল থাকবে? দিন দিন যদি হল সংখ্যা কমতে থাকে তা হলে হয়তো এ দেশে আর সিনেমা হলই থাকবে না। সংকটে পড়বে সিনেমা ইন্ডাষ্ট্রি। গত ঈদে শাকিব খানের ‘লিডার আমি বাংলাদেশ’ ছবিটি ভালো ব্যবসা করেছে। কিন্তু এরপর কোনো সিনেমাই আর চলেনি। এরই মধ্যে সিনেমা হলে নতুন সাউন্ড ও স্ক্রিন বসানো হচ্ছে। নতুন করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করছি। কনটেন্ট না থাকলে আমিও সিনেমা হল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপমহাদেশের সিনেমাগুলো একই দিনে মুক্তি পেলে প্রেক্ষাগৃহে আরও দর্শক বাড়বে। সিনেমা হলগুলো টিকে থাকবে।’
দেশের অন্যতম প্রভাবশালী লায়ন সিনেমাসের কর্ণধার মির্জা আবদুল খালেক বলেন, বহু টাকা খরচ করে প্রায় দুই বছর হলো অত্যাধুনিক মাল্টিপ্লেক্স করেছি, দেশি মানসম্পন্ন এবং বিদেশি উচ্চ মানসম্পন্ন ছবি প্রদর্শনের জন্য। সুষ্ঠু নীতিমালার মধ্য দিয়ে বিদেশি ছবি উন্মুক্ত করে প্রতিযোগিতায় আসতে হবে।’
এদিকে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে প্রদর্শক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘ভালো সিনেমা নির্মাণ না হওয়ার কারণে দিন দিন সিনেমা হল কমে যাচ্ছে। সরকার বছরে ১০টি ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন। এরই মধ্যে আমরা শাহরুখের ‘পাঠান’ চালিয়ে মোটামুটি ব্যবসা করেছি। আমরা চাই, ভারতের সঙ্গে একই দিনে বাংলাদেশে ছবি মুক্তি দেওয়া। হল মালিকরা ব্যবসা করতে পারলেই সিনেমা হলের সংস্কার হবে। তা না হলে সিনেমা ইন্ডাষ্ট্রি এক দিন বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে।’
সিনেমা হলের সংকট কাটাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণের অনুমোদন দিয়েছেন। এ ঋণের অর্থ দিয়ে সিনেমা হল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন, নতুন সিনেমা হল নির্মাণ করতে পারবেন উদ্যোক্তারা।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে গঠিত এ তহবিল থেকে মাত্র ৫ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিয়েছে একটি ব্যাংক। ফলে আলোচ্য তহবিলের সাড়ে ৯৯ শতাংশ অর্থই অলস পড়ে আছে। এ তহবিলের ঋণ নেওয়ার আবেদনের সময় আরও এক বছর বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন হল মালিকরা। এ নিয়ে দুই দফায় সময় বাড়ানো হলো।
হল মালিকদের ভাষ্য মতে, চলচ্চিত্র শিল্প লোকসানি হওয়ায় এ খাতে ঋণ দিতে বেশিরভাগ ব্যাংকের অনীহা রয়েছে। তারপরও কিছু ব্যাংক ঋণ দিতে রাজি হলেও হল মালিকদের দিক থেকে সাড়া মিলছে না। কারণ জায়গা-জমি বন্ধক রেখে তারা ঋণ নিতে আগ্রহী নন।
এ তহবিল থেকে একজন গ্রাহক ১০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পাবেন না। দেশের মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে ৫ শতাংশ ও এর বাইরের এলাকায় সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ আট বছর মেয়াদি এ ঋণ সুবিধা রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশীদ বলেন, ‘চলচ্চিত্র ব্যবসা মন্দার কারণে অনেকেই এই ঋণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কারণ এটা তো ঋণ, অনুদান নয়। যেমন ঋণের বিপরীতে জামানতের বিষয় রয়েছে। জামানতযোগ্য সম্পত্তি ভ্যালুয়েশনের বিষয় রয়েছে। সব মিলিয়ে এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এসব কারণে হয়তো ঋণ বিতরণ কম হয়েছে। তবে এখন সময় বাড়ানোয় আশানুরূপ ঋণ এ খাতে যাবে বলে আশা করছি।’
ইতিমধ্যে নতুন সিনেমা হল নির্মাণ এবং হল সংস্কারের জন্য অর্ধশতাধিক হল মালিক আবেদন করলেও বাকিরা দ্বিধায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে ৫৩ জন হল মালিক ঋণের জন্য আবেদন করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ২৩টি নতুন মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব এবং বাকিগুলো সংস্কারের। এসব কাজে আমাদের অনেক সাহায্য করছে রূপালী ব্যাংক।’
প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জল বলেন, ‘আমি একটি সিনেমা হলের জন্য ঋণের আবেদন করেছি। শিগগিরই পেয়ে যাব। কিন্তু সিনেমা না থাকলে এই ঋণ পরিশোধ করাও কষ্ট হয়ে যাবে। অনেকেই ঋণের শর্তগুলোর কারণে ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’ তার মতে, ঋণের তহবিলে জুড়ে দেওয়া শর্তগুলো আরও সহনীয় করা হলে অনেকেই ঋণ নিতে আগ্রহী হবে।
দেশে হিন্দি সিনেমা মুক্তির ব্যাপারে একমত হয়েছিল চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ মে বাংলাদেশের ৪১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান অভিনীত ছবি ‘পাঠান’। জানা গেছে, এক মাসে ‘পাঠান’-এর টিকেট বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ টাকার মতো। বিষয়টি ‘পাঠান’ সিনেমার আমদানিকারক অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার অনন্য মামুন নিশ্চিত করেছেন।
কুরবানির ঈদের পর এন ইউ আহমেদ ট্রেডার্সের কর্ণধার কামাল কিবরিয়া লিপু নিয়ে আসছেন সালমান খানের ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ ছবিটি। এই সিনেমাটি কবে মুক্তি দেওয়া হবে তা জানা যায়নি।
দেশের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে কতটি প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে তা জানতে সময়ের আলোর প্রতিনিধিরা খোঁজ নিয়েছেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী চট্টগ্রামে ২৮টি সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এসব সিনেমা হলের মধ্যে আছে এখন মাত্র দুটি। এদিকে নতুন দুটি সিনেপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর চকবাজার এলাকায় বালি আর্কেড শপিং কমপ্লেক্সে স্টার সিনেপ্লেক্স। এই মাল্টিপ্লেক্সে মোট ৩টি হল রয়েছে। আরেকটি সিলভার স্ক্রিন।
স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান বলেন, ‘করোনা মহামারিতে অন্যদের মতো আমরাও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলাম। কিন্তু করোনা-পরবর্তী সময়ে “পরান” ও “হাওয়া” সিনেমা দুটি চালিয়ে সিনেপ্লেক্সে আমাদের ব্যবসা ফিরেছে। ভালো সিনেমা নির্মিত হলে মানুষ সিনেমা হলে এসে অবশ্যই সিনেমা দেখবে।’
বরিশাল বিভাগের নগরীর দেড় কিলোমিটারের মধ্যে ছিল ‘সোনালী’, ‘বিউটি’, ‘কাকলী’ ও ‘অভিরুচি’ সিনেমা হল। এর মধ্যে ‘অভিরুচি’ বাদে বাকি তিনটি ভেঙে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠিসহ ছয় জেলায় আশির দশকে ১০৪টি প্রেক্ষাগৃহ ছিল। নব্বইয়ের দশকে যা কমে ৫০টিতে নেমে আসে। এখন মাত্র ছয়টি প্রেক্ষাগৃহের বাতি জ্বলছে নিভু নিভু করে। বরিশালে ‘অভিরুচি’, ভোলায় ‘রূপসী’, পটুয়াখালীতে ‘তিতাস’ ও বোরহানউদ্দিনে ‘রাজমনি’ নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শন করে। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের ‘বৈশাখী’, ভোলার ‘অবসর’ সিনেমা দুই ঈদে চালু করা হয়। বরিশাল বিভাগের বিলাসবহুল ‘অভিরুচি’ সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক সৈয়দ রেজাউল কবির বলেন, ‘আমরা লোকসান গুনে এখনও চালিয়ে রেখেছি। দশ বছর আগেও ‘অভিরুচি’র আসন সংখ্যা ছিল ১২০০। দর্শকের অভাবে তা কমিয়ে এখন ৩৫০ করা হয়েছে। বিগত পাঁচ বছরে কোনো দিন সেই আসনও পূর্ণ হয়নি।’
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বিমানবন্দর রোডের গকুলনগর গ্রামের একটি জনপ্রিয় ‘রাজু সিনেমা’ হল। দীর্ঘদিন সিনেমা না চলায় ওই ভবনটি ভাড়া নিয়ে এখন মাদরাসার কার্যক্রম চালাচ্ছেন উপজেলার মো. রুমন হোসাইন নামের এক মাওলানা। জানা যায়, ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত সিনেমা হলটি ওই অঞ্চলের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল।
একসময় রাজবাড়ী জেলায় হল ব্যবসার জৌলুস থাকলেও এখন তা বিলুপ্তির পথে। জেলার পাঁচ উপজেলায় ২০টি হলের মধ্যে নামমাত্র চালু রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে সদরে ছয়টি, পাংশায় চারটি, গোয়ালন্দে তিনটি, বালিয়াকান্দিতে ছয়টি এবং কালুখালীকে একটি রয়েছে। যার মধ্যে সচল রয়েছে রাজবাড়ী শহরে সাধনা, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় মনোরমা ও কালুখালীতে বৈশাখী। সাধনা নিয়মিত চালু থাকলেও দর্শক অভাবে বন্ধ থাকে বেশিরভাগ শো। এ ছাড়া দৌলতদিয়ার মনোরমা ও কালুখালীর বৈশাখীতে বিভিন্ন উৎসবে ছবি প্রদর্শিত হয়।
নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা সদরসহ সাত উপজেলায় ৩৮টি সিনেমা হল ছিল। গত দুই দশকে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার ৩৬টি প্রেক্ষাগৃহ। এর মধ্যে পাঁচ উপজেলায় এখন সিনেমা হল নেই একটিও। পুরো জেলায় ঢিমেতালে টিকে আছে মাত্র দুটি হল। এর মধ্যে নিয়মিত ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে একটিতে। সিনেমা হল ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে শপিংমল বা বেসরকারি হাসপাতাল।