
মহাখালী থেকে সিলেটগামী এনা পরিবহনের একটি বাস মঙ্গলবার রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় চার ফুট উঁচু সড়ক ডিভাইডার ভেঙে অপর পাশে চলে আসে এবং বিপরীতমুখী মাইক্রোবাসের ওপর উঠে পড়ে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালক সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। সামান্য আহত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনার মাধ্যমে আমরা আবারও প্রত্যক্ষ করলাম সড়কে চালকরা কতটা বেপরোয়া।
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ দুর্ঘটনার ছবি পোস্ট করে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। আবার অনেকেই এনা পরিবহন কোম্পানির বাসচালকদের ‘বেপরোয়া মনোভাব’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে বাসচালক মিজানুর রহমান রিপনকে আটক করেছে র্যাব। র্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানান, টাঙ্গাইল থেকে রিপনকে আটক করে ঢাকায় আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এনা পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রায়ই এরকম দুর্ঘটনার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এ প্রসঙ্গে ওই পরিবহনের মালিক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানান, প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে না। যখনই ঘটে তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তা ছাড়া তাদের নিজস্ব প্রশিক্ষক আছে। প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তারা অনেক টাকা খরচ করে প্রশিক্ষক রেখেছেন। তবুও মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এসব দুর্ঘটনার ওপর তাদের কোনো হাত নেই।
দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যায় খিলক্ষেত থানায় এনা পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন আহত মাইক্রোবাস চালক শাহাদাত হোসেন। তিনি দাবি করেন, মামলা করার আগে এনা পরিবহন কর্তৃপক্ষ মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তাতে তিনি রাজি হননি। এমন দুর্ঘটনার পর নিজের বেঁচে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। ওই ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, রাস্তায় কিছুটা যানজট ছিল। তাই আস্তেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। এনা পরিবহনের সেই বাস উত্তরার দিকে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে রোড ডিভাইডার ভেঙে তার গাড়ির ওপর বাসটি যেন উড়ে এসে পড়ে। তখন ৯টা ২০-এর মতো বাজে। তার মাথা ঘুরে ওঠে। কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে দেখেন সেই বাসের চালক আর নেই, এমনকি বাসে কোনো যাত্রীও নেই। পরে এনা পরিবহনের ম্যানেজার আসেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, আমাদের দেশে প্রতিবছর গড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ পঙ্গু হচ্ছে এবং এর একটা বড় অংশই হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে। পঙ্গুত্ববরণ করা মানুষটি যদি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হন, তাহলে সেই পরিবারের দুঃখের শেষ থাকে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি পরিবারের জন্য কিছু করতে পারেন না, উল্টো বোঝা হয়ে যান। তার পরিবার হয়ে পড়ে নিঃস্ব।
আমরা মনে করি, মানুষের জীবন নিয়ে তো এভাবে জুয়া খেলা চলতে পারে না। নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের সময় দেখা গেছে, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের সর্বোচ্চ দণ্ড নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে জোর আপত্তি এসেছে প্রভাবশালী অনেকের কাছ থেকে। এ অবস্থায় নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই ফিকে হয়ে যায়। তবুও সড়ক নৈরাজ্যের যবনিকাপাত ঘটাতেই হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও তৎপর হতে হবে। কেননা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ ও সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা আমাদের চোখে পড়ে না। এ ব্যাপারে তারা আন্তরিক হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।