জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯: কম জনবলেও সর্বোচ্চ সেবাদানের চেষ্টা

সাইফুল ইসলাম

জাতীয়

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর চালু হয় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। দিন যত যাচ্ছে এই নতুন সেবার প্রতি সারা দেশের মানুষের

2022-01-30T12:42:52+00:00
2022-01-30T12:42:52+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
জাতীয়
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯: কম জনবলেও সর্বোচ্চ সেবাদানের চেষ্টা
সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:৪২ পিএম   (ভিজিট : ১০৫১)
২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর চালু হয় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। দিন যত যাচ্ছে এই নতুন সেবার প্রতি সারা দেশের মানুষের আগ্রহ তত বাড়ছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া- সর্বত্রই এই সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দেশের যেকোনো প্রান্তে বিপদগ্রস্ত মানুষ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেই ছুটে আসে পুলিশ সদস্যরা।

সহায়তা পাচ্ছে সবাই। সন্ত্রাস, দুর্ঘটনা, বাল্যবিয়ে ঠেকানো, ধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ড ও নিখোঁজসহ যেকোনো বিপদে এখন যেন একটাই ভরসা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। এই চার বছরে ৩ কোটি ১২ লাখ ৫২ হাজার ৩৫২ নাগরিক কল করেছে এই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ। এর মধ্যে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবা চেয়ে কল করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১১৫টি। সব মিলিয়ে মোট সেবা দেওয়া হয়েছে ৬৬ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪০টি কলের। কিন্তু পুলিশের এই সেবায় তাদের নেই পর্যপ্ত জনবল, নেই স্থায়ী ঠিকানাও। তবুও সেবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে ৯৯৯। ৮০টি ডেস্কে শতাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করছে ২৪ ঘণ্টা। প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার ফোন আসে এই জাতীয় জরুরি সেবায়। একজন পুলিশ সদস্যকে ১৫০ থেকে ২০০ কল রিসিভ করতে হয় প্রতিদিন, যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এতে কল রিসিভ করতেও অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।
 
তবে সংস্থাটির মহাপরিচালক বলেন, জনবল ও স্থান বাড়ানো হলে আমরা আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পারব। আমাদের এখনও নির্দিষ্ট কোনো স্থান হয়নি। খুব অল্প পরিসরে কাজ করছি। আমাদের স্থান ও জনবল বড় করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। আমাদের জনবল বাড়াতে হবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের একটা পার্ট হিসেবে কাজ করবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯।

দেশের সব থেকে জনপ্রিয় সেবা ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’। যেখানেই ঘটনা সেখানেই ৯৯৯। দেশের জনগণের কাছে বিশ^স্ততার একটা স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সেবা। ১৭ কোটি মানুষের ভরসা পুলিশের এই ছোট ইউনিটের ওপর। সন্ত্রাস, দুর্ঘটনা, বাল্যবিয়ে ঠেকানো, ধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ড ও নিখোঁজসহ যেকোনো বিপদে এখন যেন একটাই ভরসা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার, গৃহকর্মী নির্যাতন রোধ, পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ ইত্যাদিতে ৯৯৯ প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। ৯৯৯-এ ফোন করে ঝামেলা এড়িয়ে সহজে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পাচ্ছে মানুষ।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মিডিয়া কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার সময়ের আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যাত্রা শুরু করে ৯৯৯। কিন্তু এই জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এখন দেশের মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয়। সে ক্ষেত্রে যেকোনো ঘটনায় সবার আগে এই সেবার কথা মনে পড়ে। প্রতিদিন এখানে ৩০ হাজার কল আসে। কিন্তু আমাদের জনবল কম থাকায় বর্তমানে হিমশিম খেতে হয়। ৮০টি ডেস্কের মাধ্যমে শতাধিক পুলিশ সদস্য এখানে কাজ করে। ৮ ঘণ্টা শিফটিংয়ের মাধ্যমে তারা ডিউটি করে। দেখা যায়, প্রতিদিন একজন পুলিশ সদস্যের ১৫০ থেকে ২০০ কল রিসিভ করতে হয়, যা অনেকের পক্ষে কষ্টকর। তবে আমাদের জনবল বাড়ানো হলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পারব। 

তিনি আরও বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়। এখানে খুব সামান্য ঘটনায়ও ফোন আসে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কিছুই পায় না। আবার অনেক সময় কোন স্থান থেকে ফোন দেয় তা না বলেই কেটে দেয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অটো কলার লোকেশন না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। দেখা যায়, অনেক সময় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু কলার নির্দিষ্ট জায়গার ঠিকানা বলতে পারে না। অন্ধকারের কারণে কলার কোথায় রয়েছে জানতে চাইলে তাও বলতে পারে না। কিংবা বিপদগ্রস্ত লোকটি কল করলেও এত কিছু বলার সময় পায় না। সে ক্ষেত্রে অটো কলার লোকেশন সিস্টেম থাকলে কিংবা দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তি ৯৯৯-এ কল করলে তার অবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা গেলে সেবা দিতে সুবিধা হয়। তখন কলার কোন জেলার কোন থানায় রয়েছে তা অটোমেটিক জানা যাবে। তবে ৯৯৯-এ অটো কলার লোকেশন যুক্ত হতে কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় ঘুরে বিষয়টি এখন বিটিআরসিতে রয়েছে। সেখান থেকে সবকিছু ঠিক থাকলে অটো কলার লোকেশনের সিস্টেমটিও যোগ হবে এই জরুরি সেবায়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর যাত্রা শুরু হয়। তখন সেবা চেয়ে দৈনিক কল আসত ১২ হাজারের মতো। বর্তমানে দৈনিক কল আসে ৩০ হাজারেরও বেশি। এই জরুরি সেবায় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মোট কল এসেছে ৩ কোটি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৩৫২টি। এর মধ্যে দেখা যায়, ২০১৭ সালে ৯৯৯-এ কল আসে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩০১টি, ২০১৮ সালে ৬৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৪টি, ২০১৯ সালে ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৮টি, ২০২০ সালে ৯৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯১টি, ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত কল হয়েছে ৪৯ লাখ ১৭ হাজার ৪১৮টি। এর মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে পুলিশি সেবায় কল আসে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৪টি, আগুনের ঘটনায় ৫৯ হাজার ৮১৯টি, অ্যাম্বুলেন্স সেবায় ৬৯ হাজার ৩৪৪টি। আর বিভিন্ন কারণে কল আসে ৫৩ লাখ ২৭ হাজার ৬১১টি। অপ্রয়োজনে বা প্রাঙ্ক কল আসে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৫ হাজার ৪১২টি।

৯৯৯-এ ডিউটিরত সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ সদস্য সময়ের আলোকে জানায়, সেবা দিতে গিয়ে আমাদের প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। অনেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিব্রত করে। কেউ কেউ কল করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চায়। অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর পর কলারের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন অ্যাম্বুলেন্স চালককে তেল পুড়িয়ে আবার ফেরত আসতে হয়। এভাবে নানা ধরনের বিব্রতকর ঘটনা ঘটে। তবে যথাসম্ভব সব কলের সেবা দিতে প্রস্তুত থাকি আমরা। এখানে তিনটি ফ্লোরে ১০০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করে। বিভিন্ন সেক্টরে পৃথক সদস্যরা কাজ করে এখানে। 
তারা আরও বলেন, এখানে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত কল করে। পরে বলে ভুলে কল গেছে। আবার মামলা কোর্টে অথচ অনেকে ৯৯৯-এ কল করে তথ্য জানতে চায়। তাকে যতই বলা হয় এটা কোর্টের বিষয়, এ বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করতে পারব না, কলার তারপরও বারবার কল করে বিরক্ত করতে থাকে। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি ভালো সেবা দিতে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, আমরা চার বছরে মানুষের অনেক কাছে আসতে পেরেছি। প্রথম দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ মানুষের অনীহা থাকলেও এখন অনেক জনপ্রিয়। এখন বিপদের একমাত্র সঙ্গী এই সেবা। তবে আমাদের এখনও নির্দিষ্ট কোনো স্থান হয়নি। আমরা খুব অল্প পরিসরে কাজ করছি। আমাদের স্থান ও জনবল বড় করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। আমাদের জনবল বাড়াতে হবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের একটা পার্ট হিসেবে কাজ করবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। এ ছাড়া জরুরি সেবা আরও জরুরি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। দেশের সর্বস্তরের মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে এগোতে চাই।

/আরএ


  বিষয়:   জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: