জীবনযাপনের সবচেয়ে দরকারি উপাদানের একটি আগুন কখনো কখনো হতে পারে মৃত্যুর কারণ। ছোট্ট একটি ম্যাচের কাঠিও ভস্ম করে দিতে পারে আপনার সাজানো-গোছানো বাসস্থান। অফিস, বাসাবাড়ি, কর্মক্ষেত্রে বা আপনি যেখানে অবস্থান করছেন সেখানে আগুন লেগে গেলে আপনার করণীয় কী? হঠাৎ আগুন লাগলে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা বা ক্ষতির। তাই আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কেই আজকের আলোচনা।
আগুনের ধরন ও নির্বাপণের উপায়:
আগুন নিভাতে হলে আগে আগুনের ধরন জানতে হবে। আগুনের উৎপত্তি, জ্বলার উপাদান এগুলোর ভিত্তিতে আগুন সাধারণত ৪ ধরনের হয়ে থাকে-
১. সলিড ফায়ার
বাঁশ কাঠ ইত্যাদির মাধ্যমে এই আগুনের উৎপত্তি হয়। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ছিটিয়ে এই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
২. লিকুইড ফায়ার
তেল, পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদির মাধ্যমে এই আগুনের উৎপত্তি হয়। পানি দ্বারা এ ধরনের আগুন নেভানো যায় না। বরং পানি ব্যবহার করলে এ আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের আগুনে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস, ফোম, ড্রাই পাউডার ইত্যাদি বেশি কার্যকরী। তবে এগুলো কিছুই যদি না থাকে তবে হাতের কাছে বালি থাকলে তা ছিটিয়ে দিয়েও এ ধরনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
৩. গ্যাস ফায়ার
গ্যাস লাইন, গ্যাসের চুলা ইত্যাদির আগুনকে গ্যাস ফায়ার বলে।এ ধরনের আগুনে পানি একেবারেই অকার্যকর। কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস, ফোম, ড্রাই পাউডার ইত্যাদির সাহায্যেই এই আগুন নির্বাপণ করতে হয়।
৪. মেটাল ফায়ার
সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদির মাধ্যমে মেটাল ফায়ারের উৎপত্তি হয়। মেটাল ফায়ারও পানির সাহায্যে নেভানো যায় না। উপরোক্ত উপায়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস, ড্রাই পাউডার, ফোম, বালি ইত্যাদির মাধ্যমেই এ ধরনের আগুন নেভানো যায়। তবে হাতের কাছে যদি কম্বল, ছালার বস্তা, ভারী কাঁথা বা তোষক জাতীয় কিছু থাকে, তবে এগুলো দিয়ে চাপ দিয়েও এই আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অগ্নিকাণ্ড রোধে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র:
বড় অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে বাসায় কিংবা অফিসে অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এটি হলো একটি মজবুত মেটাল সিলিন্ডার। এই সিলিন্ডারের ভিতর উচ্চ চাপে অগ্নিনির্বাপক বস্তু সংরক্ষিত থাকে। যন্ত্রের মুখ একটি সেফটি পিন দিয়ে আটকানো থাকে। ব্যবহার করার সময় টান দিয়ে সেফটি পিনটি খুলে অপারেটর লিভারটি নিচের দিকে চাপ দিলেই কার্বন-ডাই গ্যাস কিংবা ড্রাই পাউডার দ্রুত বেগে নির্গত হতে থাকবে। বর্তমানে বাজারে চার ধরণের আগুন নেভানোর যন্ত্র পাওয়া যায়।
ক্লাস এ:
সাধারণত কাঠ, বাঁশ, কাগজ, প্লাস্টিকের আগুন নেভাতে এটি ব্যবহার করা হয়।
ক্লাস বি:
ডিজেল, কেরোসিন কিংবা গ্রীজের আগুন নেভাতে পারে এই যন্ত্র।
ক্লাস সি:
বৈদ্যুতিক আগুন নেভাতে এই ধরণের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এবিসি এক্সিংগুইসার:
এই যন্ত্রের সিলিন্ডারে এবিসি ড্রাই পাউডার মজুদ থাকে। উপরের তিন ধরণের আগুন নেভাতে এই সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। এই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি বেশ জনপ্রিয়।
ক্লাস ডি:
পরীক্ষাগারে দাহ্য পদার্থের আগুন নেভাতে এটি ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা
ঝুঁকি কিংবা ক্ষতি কমাতে আগুন লাগলে প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকরী করনীয় হল- মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং সেভাবে কাজ করা।
/এসএইচএন