ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পিবিআই কর্মকর্তা সেজে মোবাইলে ফোনে টাকা চেয়ে প্রতারণার অভিযোগে আবদুল কাইয়ুম অনিক (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।
পিবিআই ময়মনসিংহের প্রেস রিলিজ থেকে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি উপজেলার রাশিদুল ইসলাম রাশিদ (৩০) নামে এক ব্যক্তির কাছে পিবিআইর এসআই ফারদিন আহম্মেদ পরিচয় দিয়ে কল করেন অনিক। মামলা আছে বলে রাশিদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে সে। বিকাশে টাকা পরিশোধ করলে মামলাটি শেষ করে দেবে বলেও জানানো হয় এবং একটি ভুয়া এফআইআরের কপি রাশিদের ইমো আইডিতে প্রেরণ করা হয়। এফআইআরের সেই কপিতে রাশিদের পরিচালিত সেবা ডায়গোনস্টিক সেন্টারের ঠিকানা ব্যবহার করে আসামির ঘরে রাশিদের নাম উল্লেখ করা হয়। পরের দিন সকালে আবারও ফোন দিয়ে মোবাইলে টাকা পাঠাতে বলে অনিক অথবা ময়মনসিংহে অবস্থিত পিবিআই ব্রাঞ্চে আসতে বলে।
পরে রাশিদ টাকা না দিয়ে পিবিআই অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এ রকম কোনো মামলা তার নামে হয়নি। এমনকি এসআই ফারদিন আহম্মেদ নামে কেউ কর্মরত নেই সেখানে। বিষয়টি প্রতারণা বুঝতে পেরে রাশিদ ময়মনসিংহ জেলার পিবিআই অফিসে পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বরাবর একটি অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অমিতাভ দাস তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞাতনামা প্রতারকদের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এসআই অমিতাভ দাস জানান, গত বুধবার ঈশ্ব রগঞ্জ থানায় রাশিদ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মামলার অন্যতম আসামি আবদুল কাইয়ুম অনিককে (২৫) গ্রেফতার করে আদালাতে সোপর্দ করে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, এই মামলার প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পাবলিক ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল-জালিয়াতিসহ ডিজিটাল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তাদের নামে প্রতারণার মামলা রয়েছে। প্রতারক চক্রের সব সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সবাইকে আইনের আওতায়
আনা হবে।