দেশের বাজারে হঠাৎ করে আলুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ভারত থেকে আলু আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যার ফলে গত ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে প্রথম বারের মতো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন আলু ভারত থেকে আমদানি হয়েছে।
এতে স্থানীয় হিলি বাজারে দেশীয় আলু ও আমদানিকৃত আলুর দাম কমেছে। আলুর দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতার মাঝে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে দাম আরও কমে যাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারতীয় ৩৮টি ট্রাকে ৯৭৬ মেট্রিক টন এবং প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার ৭টি ট্রাকে ১৯০ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়েছে।
রোববার (৫ নভেম্বর) হিলি স্থলবন্দর ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত আলু প্রকারভেদে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩১ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে। আর বাজারে আমদানিকৃত আলু ৩৬-৩৮ টাকা কেজি দরে। অন্য দেশী আলু ৬০ টাকা কেজি থেকে ১০ টাকা কমে বর্তমানে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে আলু কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে হঠাৎ বাজারে আলুর দাম বেড়ে যায়। গত এক সপ্তাহ আগে আলু কিনেছি প্রতি ৬৫-৭০ টাকা। আজ আলু কিনলাম দেশী গোল আলু ৫০ টাকা কেজি। ভারতীয় কাটিনাল স্টিক আলু ৩৬ টাকা। আলু একটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। তাই দাম কমলে আমাদের জন্য খুবই ভালো।
হিলি খুচরা বাজারের আলু বিক্রেতা মো: আশরাফ আলী জানান, ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু হওয়ায় দেশী আলুর দাম কেজিতে থেকে ৫ টাকা কমেছে। বর্তমানে বড় জাতের আলু (ষ্টিক) লম্বা টাকা ৫০ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা ছোট জাতের গোল আলু ৬০ টাকা থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। আর ভারতীয় আলু প্রতি কেজি ৩৬-৩৮ কেজি বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের সহকারী উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, দেশের বাজারে আলুর দাম স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন আলু আমদানির অনুমতি পেয়েছে।
হিলি বন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খাঁন ইন্টারন্যাল এর ব্যবস্থাপক মাহাবুব হোসেন বলেন, গেলো বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে থেকে আলুগুলো আমদানি করা হচ্ছে। প্রতি মেট্রিক টন আলু আমদানি মূল্য ১৩০ থেকে ১৪০ মার্কিন ডলার খরচ পড়ছে। আমদানিরকৃত আলুতে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৩৩ শতাংশ। ইতিমধ্যে বাজারে আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। আলু আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমে যাবে বলে আশা করছি।
হিলি পানামা পোর্ট জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, আমদানিকৃত আলু কাঁচা পণ্য হওয়ায় দ্রুত বাজারজাত করতে আমদানিকারকদের সবধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) ও শনিবার (৪ নভেম্বর) দুই দিনে বন্দর দিয়ে ৪৫টি ভারতীয় ট্রাকে ১ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়েছে।
সময়ের আলো/জিকে