অফিস সহকারীর অবহেলায় শাহনাজের অনার্সে ভর্তি অনিশ্চিত

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

নান্দাইলের সরকারি শহিদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের অফিস সহকারীর দায়িত্বে অবহেলায় অনার্স ভর্তি প্রত্যাশী এক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।ভুক্তভোগী ওই

2023-11-07T07:10:01+00:00
2023-11-07T07:10:01+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
অফিস সহকারীর অবহেলায় শাহনাজের অনার্সে ভর্তি অনিশ্চিত
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩, ৭:১০ এএম 
নান্দাইলের সরকারি শহিদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের অফিস সহকারীর দায়িত্বে অবহেলায় অনার্স ভর্তি প্রত্যাশী এক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম শাহনাজ পারভিন। শহিদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে শাহনাজ ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ১৭১০২৬৪৪৩৬, রোল নাম্বার ২০৭৮২৬।

অনার্সে ভর্তির জন্য শাহনাজ কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে সুযোগ পান। অনার্সে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে গত ২৯ মে সকাল ১০টায় শাহনাজ কলেজে উপস্থিত হলেও কলেজের অফিস সহকারী আনিসুজ্জামান সাজু কাগজপত্র দিতে তালবাহানা করে সময় নষ্ট করেন। ওইদিনই ছিল শাহনাজের অনার্সে ভর্তির শেষ দিন।

শাহনাজ পারভিন জানান, অনার্সে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে কলেজের অফিস সহকারী আনিসুজ্জামান সাজুর কাছে গিয়ে তিনি অনুরোধ জানান যাতে একটু দ্রুত কাজ করা হয়। কিন্তু সাজু কথায় গুরুত্ব না দিয়ে নানা উছিলায় সময় নষ্ট করতে থাকেন। শাহনাজের পরে যাওয়া অন্যদের কাজ আগে করে দিলেও তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। দেরি হতে থাকায় এক পর্যায়ে কেঁদে দেন শাহনাজ। তাতেও কাজ না হওয়ায় কলেজ দফতরি আবদুর রহিমের সহযোগিতায় কাগজপত্র হাতে পেতে দুপুর ১টা বেজে যায়।

এরপর কাগজপত্র নিয়ে নান্দাইল থেকে কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে পৌঁছাতে বেলা ৩টা বেজে যায়। ওইদিনই ওই কলেজের অফিস সময় দুপুর ২টার মধ্যে ভর্তির শেষ সময় ছিল। 

ভর্তির জন্য পরের দিন আবার ওই কলেজে গেলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় আগের দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ছিল ভর্তির শেষ সময়। এখন আর ভর্তির সুযোগ নেই।

কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তির সুযোগ নষ্ট হওয়ায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে শাহনাজের। ভর্তির সুযোগ নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে শাহনাজ বাড়িতে অলস সময় কাটাচ্ছে। বিষয়টি সে কোনোভাবে মেনে নিতে পারছে না।

শাহনাজ পারভিনের বাবা জালাল উদ্দীন বলেন, কলেজের অফিস সহকারীর খামখেয়ালিতে আমার মেয়ের পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মেয়ের সহপাঠীরা এখন বিভিন্ন কলেজে অনার্সে পড়ালেখা করছে। আর আমার মেয়ে ভালো রেজাল্ট করেও ভর্তি হতে না পেরে বাড়িতে একা অলস সময় পার করছে। আমার পরিবার এটা মেনে নিতে পারছে না। মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে আমরা ভীষণ চিন্তিত।

গত রোববার সরকারি শহিদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাদল চন্দ্র দত্তের অফিস কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অফিস সহকারী সাজু এমন কা- আগেও করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। তবে শাহনাজ বিষয়টি আমাকে জানায়নি। অফিস সহকারী আনিসুজ্জামান সাজুর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণে অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা তার নিয়োগ (মাস্টার রোল) বাতিল করে নতুন অফিস সহকারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: