নান্দাইলের দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। ১৯৬৩ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠাতা করেন কাজী নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। পরে মাদ্রাসাটি ১৯৮৭ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। বর্তমানে মাদ্রাসটি ৩৫০ জনের মত শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে ১৯ জন।
এদের মধ্যে মাদ্রাসার সুপার মো. এনামুল হকের স্ত্রী শামছুন্নাহার নিরাপত্তা কর্মী, শ্যালিকা ছদরুন্নাহার আয়া, শ্বশুর কাজী নুরুল ইসলাম মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এমন পরিবার কেন্দ্রিক মাদ্রাসাটি নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের দেউলডাংরা গ্রামে।
সম্প্রতি সরেজমিনে মাদ্রাসাটি গিয়ে দেখা যায়- দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসাটি ৬০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও জরাজীর্ণ নেই কোন সাইনবোর্ড। মাদ্রাসার পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে তিনটি টিনশেট ঘর রয়েছে। দক্ষিণ পাশের টিনশেটটি মাদ্রাসার অফিস কক্ষ হিসাবে ব্যবহার করছেন।
মাদ্রাসায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও তার অর্ধেকের কম শিক্ষার্থী শ্রেণী কক্ষে পাওয়া গেছে। মাদ্রাসার নিরাপত্তা কর্মী শামছুন্নাহার কে পাওয়া যায়নি। জানাজায়- দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া থাকার পরেও লাকী আক্তার নামের এক নারী মাদ্রাসার কাজকর্ম করছেন।
মাদ্রাসার সুপার মাদ্রাসার তহবিল থেকে বেতন ও দিচ্ছেন। তবে নিরাপত্তা কর্মী সুপারের স্ত্রী মাদ্রাসায় প্রতিদিন উপস্থিত থাকেন না বলেও জানা যায়। মাদ্রাসার সভাপতি কাজী নুরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত দেউলডাংরা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও রয়েছে। সেখানে তার স্ত্রী মাদ্রাসা সভাপতি, একই মাদ্রাসার সুপার শহীদুল্লাহ্ আরেক জামাই রয়েছেন।
দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রী জানান- সুপার স্ত্রী তো মাঝে মধ্যে দেখি আসতে। উনি তো অফিস কক্ষ থেকে বের হন না। সুপারের সাথেই বসে থাকেন। নিরাপত্তা তো দিতে দেখি নাই কোন দিন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. এনামুল হক বলেন- নিয়োগের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। আমার শ্বশুর উনি নিজে দুটি প্রতিষ্ঠান করেছে এখানে উনার মেয়েদের কে চাকুরী দিয়েছেন।
জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম বলেন - নিয়োগের সময় এ ব্যাপারে আমার আপত্তি ছিল। তবে কেমনে নিয়োগ হল জানি না। কাজ না করে বদলি দিয়ে কাজ করানো যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান- এটা কখনও সম্ভব না যে নিয়োগ পেয়েছে তারই কাজ করতে হবে। বদলি কোন কাজ করা যাবে না। বিষয়টি আমি সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
সময়ের আলো/এএ/