গাইবান্ধা-১: গণসংযোগে সরগরম ভোটের মাঠ

কায়সার রহমান রোমেল গাইবান্ধা

সারাদেশ

ভোটের কয়েক মাস বাকি থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। ভোটের রাজনীতিতে

2023-11-08T00:46:43+00:00
2023-11-08T00:46:43+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গাইবান্ধা-১: গণসংযোগে সরগরম ভোটের মাঠ
কায়সার রহমান রোমেল গাইবান্ধা
প্রকাশ: বুধবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৩, ১২:৪৬ এএম 
গাইবান্ধা-১: গণসংযোগে সরগরম ভোটের মাঠ
ভোটের কয়েক মাস বাকি থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। ভোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির (জাপা) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনে দাঁড়ানোর টিকেট বাগিয়ে নিতে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন মাঠে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগে তাই সরগরম হয়ে উঠেছে গাইবান্ধা-১ আসনের এলাকা। এ আসনে ইতিমধ্যেই সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের ফিরিস্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। মাঠে সক্রিয় রয়েছে জাতীয় পার্টিও। আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের নীরব প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপিও। আর নিজেদের একক প্রার্থী ঠিক করে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত। প্রতিটি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সবাইকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ভোটারদের দোয়া চেয়ে রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে দিয়েছেন হাটবাজার স্কুল-কলেজের দেয়াল থেকে শুরু করে সব জনাকীর্ণ এলাকা।

জোটগত রাজনীতির সমীকরণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। দেশজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে এ আসনে দলের একক প্রার্থী চান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। 

আবার জাপাও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখাতে চায়। আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী জাপা চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের সম্প্রতি দলের জেলা সম্মেলনে জানান ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে দলটির। আবার জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ভাবনাও তারা ঝেড়ে ফেলেননি।

তবে সব দলের মধ্যে দল গোছানোর দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। তারা ‘গ্রাউন্ডওয়ার্ক’ সেরে ফেলেছেন। জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে সুন্দরগঞ্জের। তবে আন্দোলনের ডামাডোলের মধ্যেই সন্তর্পণে নির্বাচনি হোমওয়ার্ক সারছে বিএনপি। 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও পনেরোটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-১ সংসদীয় আসন। এখানে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৬ জন। এই আসনে স্বাধীনতার পর থেকে ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ছয়বার জাতীয় পার্টি, দুবার আওয়ামী লীগ, একবার বিএনপি, একবার ইসলামি ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) এবং একবার জামায়াতে ইসলামী জয়লাভ করেছে। 

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪১ বছর পর গাইবান্ধা-১ আসন পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হলে আসনটি শূন্য হয়। ২০১৭ সালের ২২ মার্চ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গোলাম মোস্তফা আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ পুনরায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বিজয়ী হন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জাপা নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মোহসীন সরদারও মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। 
শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। তবে করোনার কারণে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ব্যাহত হয়েছে। তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ হবে বলে মনে করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বোন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফরুজা বারী এবং লিটনের স্ত্রী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম সরকার লেবু, সহ-সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুল হান্নান, সহ-সভাপতি সৈয়দ মশিউর রাব্বানী আপেল এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দা মাসুদা খাজা মনোনয়ন চাইতে পারেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য না থাকায় উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে সুন্দরগঞ্জ। তাই আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করে এলাকার উন্নয়নকে বেগবান করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

অন্যদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষিত না হলেও ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন-জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক ও পৌর বিএনপি নেতা ইফতেখার হোসেন পপেল।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে। সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ১০ দফা দাবি এবং জনসম্পৃক্ত নানা ইস্যুতে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে শক্তি দেখাতে চাইছে দলটি। ইতিমধ্যে এ আসনে তারা প্রার্থীও ঠিক করে রেখেছে। তবে আপাতত দাবি আদায়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনেই থাকতে চায় তারা। এ জন্য নানা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির জেলা পর্যায়ের নেতারা।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দলটির গাইবান্ধা জেলা শাখার নায়েবে আমির এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।

সময়ের আলো/আরএস/ 




Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: