শীতের আগমনি বার্তায় প্রতিটি পরিবারে শীত মোকাবেলায় লেপ তোষকের চাহিদা বেড়ে যায়। দিনে কিছুটা গরম থাকলেও রাতে ঠান্ডা ভাব পড়েছে। এভাবেই আসি আসি করছে শীত। এতেই কিশোরগঞ্জ হোসেনপুরে লেপ তোষক বানানোর কারিগররা বর্তমানে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন লেপ তোষক তৈরিতে।
কিশোরগঞ্জে জেলার, হোসেনপুর উপজেলা শীত মৌসুমে এ অঞ্চলে তুলনা মূলক শীতের প্রভাব বেশি থাকে। শীত মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে লেপ তোষক বানানোর কাজ শুরু হয় সেপ্টম্বর- অক্টোবর থেকেই। হোসেনপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, জগদল, পুমদী, গোবিন্দপুর, শীতলগঞ্জ, শাহেদল কাপড় পট্টিতে গড়ে উঠা লেপ তোষক বানানোর পল্লীতে বারো-চৌদ্দ জন কারিগর রয়েছেন। যারা মালিকদের লেপ-তোষক তৈরির অর্ডার অনুযায়ী কাজ করে থাকেন। এতে লেপ- তোষক প্রতি মজুরি হিসেবে তাদের ভাগ্যে জোচে ছোট- বড় অনুযায়ী তিন শত থেকে চার শত টাকা।
লেপ-তোষক বানানোর কারিগর সিহাব আলী, রফিকুল ইসলাম, রমজান আলী জানান, সাইজ অনুযায়ী ও প্রকার ভেদে এবার লেপ-তোষকবানাতে খরচ পড়ছে এক হাজার ছয় শত থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। মজুরি তুলাসহ লেপ-তোষকের দাম গড়ে পাঁচ শত টাকা বৃদ্ধি পেয়েছেন। তুলা সহ লেপ তোষক বানানোর কাজে ব্যবহীত জিনিষ পত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোষকের দামগড়ে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান।
শুক্রবার (১০ নভেম্বর) হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছেন এই এলাকার লেপ-তোষকের কারিগর ও দোকান মালিকরা। তাদেরই একজন নজরুল ইসলাম।উপজেলার পৌর এলাকার হনুমানতলা তার দোকান তিনি বললেন,হালকা শীত পড়ায় লেপ-তোষক বিক্রি বেড়েছে।
কথা হয়,একই এলাকার দোকানদার সাগর মিয়ার সাথে তিনি জানান, শীত বাড়ায় অন্য সময়ের তুলনায় বেচাকেনা বেড়েছে।
জানা গেছে, লেপ তোষকের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানি নামে বেনামে বিছানার ফোম তৈরি করে বিক্রি করছে। তাছাড়া, বিদেশ থেকে আমদানি করা এক ধরনের মোটা লেপ ও বিভিন্ন কোম্পানির কম্বলে আগ্রহী হয়েছেন অনেকে।
আরও জানা যায়,জিনিসপত্রের (তুলা,কাপড়) দাম বেশি থাকার কারণে এ বছর আগের তুলনায় একটু দাম বেশি নিচ্ছে।
লেপ তোষক কারিগর ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে,তুলা ভেদে লেপ-তোষকের দামের পার্থক্য আছে। মজুরিও একেক রকম। পলি, শিমুল, পিসি, মাহিশা, ফাইবার, কার্পাস, উল, ব্লাজার ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের তুলা আছে বাজারে। তবে শিমুল ও কার্পাস তুলার লেপ-তোষক বা বালিশ বানাতে খরচটা বেশি পড়ে।
সময়ের আলো/আরএস/