ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২৫ ও ১৫ কেজি ওজনের দুটি কোরাল। রোববার (১২ নভেম্বর) বিকেলে তালতলা মাছ ঘাটে মাছ দুটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন বসু নামে এক জেলে। এত বড় কোরাল ধড়া পড়ায় এক নজর কোরাল গুলো দেখতে ভিড় জমে যায় উৎসুক জনতার।
প্রত্যক্ষদর্শী নিজাম মিজি জানান, মেঘনা নদীতে সচরাচর এত বড় মাছ ধরা পড়ে না। এতো বেশি ওজনের কোরাল মাছ বহু বছর আগে দেখা যেত। কয়েক বছর ধরে কোরাল মাছ তেমন একটা পাওয়াই যায় না। মাছ দুটি দেখার জন্য উৎসুক জনতার ভিড় করছেন তালতলা মাছ ঘাটে।
জেলে বসু মাঝি বলেন, রোববার (১২ নভেম্বর) ভোরে চরপিয়াল সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করার জন্য নদীতে জাল পাতা হয়। এমন সময় জালটি বেশ ভারী মনে হলে তাদের একজন নদীতে নেমে নৌকায় জাল তুলতে সহায়তা করেন। পুরো জাল নৌকায় তোলার পর দেখা যায়, বড় দুইটি কোরাল ধরা পড়েছে। ২২ দিন নদীতে নিষেধাজ্ঞা ছিলো। এই নিষেধাজ্ঞার পরে নদীতে গিয়ে তেমন কোন মাছ পাই না। আল্লাহ আমারে আইজ সকালে এই দুইডা (দুইটি) মাছ দিয়েছে। পরে ওই কোরাল দুইটি আড়তে এনে ওজন দিয়ে দেখেন ২৫ ও ১৫ কেজি। পরে কোরাল দুইটি ৪০ হাজার টাকা বিক্রয় করি।
মাছ ব্যবসায়ী সুমন বদ্দার জানান, জেলে বসুর কাছ থেকে ২৫ ও ১৫ কেজি ওজনের কোরাল মাছ দুইটি এক হাজার টাকা কেজি দরে দুইটি মাছ মোট ৪০ কেজি ৪০ হাজার টাকায় তিনি ক্রয় করেন। মাছটি অধিক লাভের আশায় রাতেই ঢাকার নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন মুঠোফোনে বলেন, বিভিন্ন সময় সাগর এবং নদ-নদীতে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে সরকার। একইসঙ্গে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ থাকার ফলে নদীতে মাছ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শীতের এই সময় সাগর থেকে মোহনায় আসে বড় সাইজের মাছগুলো। আশা করছি জানুয়ারি পর্যন্ত সাগর মোহনায় বড় সাইজের কোরাল ও পাঙ্গাশ জেলেদের জালে ধরা পরবে। এ মাছ খুবই সুস্বাদু। তাই জেলেরা দামও ভালো পেয়ে থাকেন।
সময়ের আলো/আরআই