ভেদরগঞ্জের খাদ্য কর্মকর্তাকে অপসারণের নির্দেশ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার বাসভবনে সরকারি চালের বস্তা পেয়ে বস্তাসহ বাসভবনটি সিলগালা করে দিয়েছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিলগালাকৃত ওই বাসভবনের

2023-11-14T03:57:21+00:00
2023-11-14T03:57:21+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ভেদরগঞ্জের খাদ্য কর্মকর্তাকে অপসারণের নির্দেশ
জানালার গ্রিল কেটে জব্দ চালের বস্তা সরানোর চেষ্টা
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৩, ৩:৫৭ এএম 
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার বাসভবনে সরকারি চালের বস্তা পেয়ে বস্তাসহ বাসভবনটি সিলগালা করে দিয়েছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিলগালাকৃত ওই বাসভবনের জানালার গ্রিল কেটে জব্দকৃত সেসব বস্তা সরানোর চেষ্টা করেছেন খাদ্য কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ। এ ঘটনার পর তাকে খাদ্য কর্মকর্তার পদ থেকে অপসারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত রোববার সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তার সিলগালাকৃত বাসভবন থেকে জানালার গ্রিল কেটে জব্দকৃত বস্তাগুলো অপসারণের চেষ্টা করেন।

স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর হঠাৎ করেই পরিদর্শনে গিয়ে খাদ্য গুদামের পাশে অবস্থিত খাদ্য কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেখানে গিয়ে সরকারি সিলমোহরসহ ৫০ কেজির ১০ বস্তা ও ৩০ কেজির তিন বস্তা চাল জব্দ করা হয়। এর পাশেই আবার পড়েছিল চালের ১ হাজার ১০০ খালি বস্তা। পরে বস্তাগুলোসহ বাসভবনটি সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু পরের দিন রোববার সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ বাজারের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ থেকে কর্মচারী সজিব ছৈয়ালকে ভাড়া করে এনে খাদ্য কর্মকর্তার বাসভবনের উত্তর দিকের জানালার চারটি রড বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন খাদ্য গুদামের নৈশপ্রহরী আবু হানিফ। আবু হানিফ প্লাস্টিক ও পাটের বস্তাসহ বেশ কিছু বস্তা সরিয়ে ফেলেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন টের পেলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান ইউএনও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং খাদ্য কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ ও তার সহযোগী সজিব ছৈয়ালকে আটক করেন। এ সময় নৈশপ্রহরী আবু হানিফ পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক বিল্লাল হাওলাদার বলেন, ‘খাদ্য কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ আমাকে বলেছিলেন, তালুকদার বাড়ির একটি ঘরের গ্রিল কাটতে হবে। কথা অনুযায়ী আমার কর্মচারী সজিবকে পাঠাই তার কাছে। পরে জানতে পারি সজিবকে তিনি খাদ্য গুদামের বাসভবনের গ্রিল কাটতে নিয়ে গেছেন।’

বৈদ্যুতিক কাটার মেশিন পরিচালনাকারী সজিব ছৈয়াল বলেন, ‘মহাজন আমাকে ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে আসতে বলেছিলেন। এসে তার কথামতো খাদ্য গুদামের বাসভবনের জানালার গ্রিল কেটে দিয়েছি। কাটার পর একজন কিছু বস্তা ও সুতা সরিয়ে ফেলেছে। কথা ছিল বস্তাগুলো সরানোর পরে জানালার গ্রিলটি আবার জোড়া লাগিয়ে দেব। কিন্তু এর আগেই ইউএনও স্যার চলে এসেছেন।’

খাদ্য গুদামের নৈশপ্রহরী মোক্তার হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমার স্ত্রী খবর দেন যে সিলগালাকৃত বাসভবনের জানালার গ্রিল কাটছেন খাদ্য কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ। আমি দ্রুত এসে দেখতে পাই জানালার গ্রিল কেটে ফেলা হয়েছে। ইউএনও স্যারকে দেখে আমার অন্য সহকর্মী হানিফ পালিয়ে গেছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরীয়তপুর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জানালার গ্রিল কাটার বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিষয়টি নিয়ে আমরা লজ্জিত। ইকবাল মাহমুদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। তারপর আবার যা ঘটিয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ 

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শনিবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালসহ ১ হাজার ১০০ খালি বস্তা খাদ্য কর্মকর্তার বাসভবন থেকে জব্দ করে বাসভবনটি সিলগালা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে অজ্ঞাত একটি নাম্বার থেকে মুঠোফোনে জানতে পারি, খাদ্য কর্মকর্তা জানালার গ্রিল কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দকৃত জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা গিয়ে খাদ্য কর্মকর্তাকে হাতেনাতে ধরেছি। তাকে তার পদ থেকে অপসারণ করে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ দুদককে জানানো হবে।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: