বগুড়ার কাহালুতে বাড়ির দেয়ালে ও দরজায় পোস্টার লাগিয়ে সন্তান অপহরণের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রবিউল ইসলামকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রাম হতে কাহালু থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
রবিউল ইসলাম বিষ্ণুপুর পুকুরপাড় গ্রামের আব্দুল মোমিন এর ছেলে। এসময় তার কাছ থেকে চাঁদা দাবীকৃত ৪টি পোষ্টার ১টি পেনড্রাইভ ও ১ টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় কাহালু থানা অফিসার ইনচার্জের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিফিং করে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কাহালু-নন্দীগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ওমর আলী। এসময় সদ্য যোগদান কারি কাহালু থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা, এস আই নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রবিউল ইসলাম উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বাড়ির দরজায় ও দেয়ালে সাংসারিক আয় ভেদে ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করে হুমকি প্রদান করে। এঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাহালু থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেই সাথে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সহকারী পুলিশ সুপার কাহালু-নন্দীগ্রাম এ সার্কেল, জেলা গোয়েন্দা শাখা, ডিএসবি, ডিজিএফআই, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুরু হয় ঘটনার রহস্য উদঘাটনের কাজ।
রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে কাহালু-নন্দীগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ওমর আলীর দিক নিদর্শনায় কাহালু থানা সাবেক অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান এর সার্বিক তত্বাবধানে কাহালু থানা পুলিশের একটি চৌকস দল নিরলস ভাবে প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদর্শনায় পর্যাপ্ত সোর্সিং ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কাহালু -নন্দীগ্রাম সার্কেল ওমর আলীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্য ও সদ্য যোগদানকারী কাহালু থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম রেজাসহ একটি চৌকস দল ঐ দিন রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে।
সময়ের আলো/আরআই