ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে কালো মেঘে ঢেকে আছে খুলনার আকাশ। পড়ছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’তে রূপ নিয়েছে। এর প্রভাবে খুলনাসহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, আগামীকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টির এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও আছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) খুলনা নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি খুবই কম। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় খুব বেশি প্রয়োজন না হলে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
তবে এই আবহাওয়ার মধ্যেও নগরের অনেক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। হরতাল-অবরোধের ক্ষতি কাটিয়ে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার বাধ্যবাধকতার কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মিধিলির প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে খুলনা জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে জানিয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসিন আরেফীন বলেন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র এবং শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যেকোনো সময় জরুরি মুহূর্তে সেবা দেওয়া জন্য সবকিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অপরদিকে গভীর নিম্নচাপের কারণে অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সদ্য পাকতে শুরু করা আমন ধান ও শীতকালীন সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চাষিরা।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাঠে থাকা অধিকাংশ আমন ধান এখন আধা পাকা। জেলায় এবার ৯৪ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে, এরমধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সেগুলো ঘরে ওঠার কথা। এমন পরিস্থিতিতে ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের প্রভাব বেশি থাকলে ধানের গাছ মাটিতে পড়ে ক্ষতির আশঙ্কা আছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, এছাড়া কৃষকরা এখন খেতে শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করছেন। প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি ও এর বীজতলা আছে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে ওই চারাও মারা যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে হারবার বিভাগ।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহীন মজিদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বন্দরে বর্তমানে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, ইউরিয়া সারসহ মোট ১৭টি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নৌযানগুলোকে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ মজুমদার মুঠোফোনে জানিয়েছেন, সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকির জন্য আহরিত মাছ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলে-মহাজনরা। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরাও বন্ধ করে দিয়েছেন জেলেরা। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পেলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
গত ১ নভেম্বর থেকে সুন্দরবনের দুবলাসহ কয়েকটি চরে ১০ হাজারের অধিক জেলে-মহাজনরা অবস্থান করছেন শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে। অন্যদিকে বড় কোনো দুর্যোগ না হলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের আপাতত কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অধিকাংশই মেরামত করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ চলছে।
সময়ের আলো/আরআই