বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিন্মচাপটি ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে রুপ নিয়েছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিন্মচাপটি ঘূর্ণিঝড় আকারে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত নাগাদ বাংলাদেশ অতিক্রম করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় “মিধিলি” আতংকে মনপুরার দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
ভোলার মনপুরা উপকূল ঘূর্ণিঝড় মিধিলি'র প্রভাবে গতকাল রাত থেকে ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাছন্ন রয়েছে। সেই সাথে মেঘনা নদী প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে আছে। এই অঞ্চলকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মনপুরার সাথে ভোলা ও ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথে সকল লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে বিচ্ছিন্ন হয় পড়ছে এই উপকূলের দেড় লক্ষাধিক বাসিন্দা।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। এছাড়া মেঘনার পানি বাড়তে শুরু করেছে। বাতাসের তীব্রতা একটু বাড়ছে। জনমনে আতংক বিরাজ করছে।
এদিক ঘূর্ণিঝড় মিধিলি এর প্রভাবে উপকূল পানি উঠতে পারে এ আশঙ্কায় নিরাপদে বাসিন্দাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিপিপি কর্মীরা শুক্রবার সকাল থেকে মাইকিং শুরু করেছেন।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাসিন্দাদেরকে সর্তক করতে ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে ও উপজেলা প্রশাসন ও সিপিপি কর্মীরা মাইকিং করছেন।
এদিক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই তারা প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন। মিধিলি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
এব্যাপার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় “মিধিলি” মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুতি সভা করেছেন। ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন আসার জন্য সিপিপি মাইকিং করছে। কট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার মজুদ করে রাখা হয়েছ। সমস্ত সাইক্লোন সেন্টারে খাবার ও পানির ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির আশপাশ ও চরের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
সময়ের আলো/জিকে