দেশজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজারের টেকনাফের চারজন এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক শিশুসহ মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। তবে দেশের অনেক এলাকায় ব্যাপক গাছপালা ভেঙে পড়েছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। জমির পাকা, আধাপাকা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে দিনভর কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি আবার কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে গোড়ালি থেকে হাঁটু পরিমাণ পর্যন্ত পানি দেখা গেছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে উপকূল পানি উঠতে পারে এ আশঙ্কায় নিরাপদে বাসিন্দাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিপিপি কর্মীরা শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে মাইকিং শুরু করেছেন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মিধিলি দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে পটুয়াখালীর দিকে অবস্থান করছে। আর মিধিলি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় মোংলা ও পায়রা বন্দরে দেওয়া সাত নম্বর বিপৎ সংকেত নামিয়ে ৩ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরের ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ দেওয়া হয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল পটুয়াখালীতে। বেলা তিনটার দিকে সেখানে ঘণ্টায় ১০২ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বয়ে যায়।
তিনি জানান, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে সারা দেশে দিন ও রাতে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
শনিবার ঢাকায় বৃষ্টিপাত কমবে, তবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
টেকনাফে ঘরের মাটির দেয়াল ধসে মা ও ছেলে-মেয়েসহ চারজন নিহত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলায় বসতঘরের মাটির দেয়াল চাপায় এক পরিবারের মা, তিন ছেলে-মেয়েসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
নিহত চারজন হলেন-উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের মরিচ্যাঘোনার পানিরছড়া মৃত ঠান্ডা মিয়ার ছেলে ফকির মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৫০), ছেলে শাহিদুল মোস্তফা (২০),মেয়ে নিলুফা ইয়াছমিন (১৫) ও সাদিয়া বেগম (১১)।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ৩টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের মরিচ্যাঘোনার পানিরছড়া নামক এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপির) চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও রাত আটটার পর থেকে কয়েক দফা ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের মরিচ্যাঘোনার পানিরছড়া এলাকায় বসতঘরের মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারি এক পরিবারের ৪জন নিহত হয়েছেন।পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন মাটি চাপাপড়া ৪জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়েছে।
রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ফকির মোহাম্মদ নিজে বসতঘরটি মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন। রাতে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় ঘরের উপরে ও চারিপাশে ত্রিপল দিয়ে ঘুমান সবাই।এরপর হঠাৎ রাত ৩টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে মাটির দেওয়াল ধসে চাপা পড়ে ফকির মোহাম্মদ ছাড়া বাড়ির সবাই মারা যান।
১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বশির আহমদ বলেন, রাতে পরিবার সবাই খাওয়াধাওয়া করে ঘুমাতে যান।এরমধ্যে মধ্যরাতে বসতঘরের মাটির দেওয়াল চাপাপড়ে এক পরিবারের চারজন মারা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ঘটনা স্থলে ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধারের সহযোগিতা করেন এবং নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন।
মৃতদের প্রতি শোক জানান তিনি আমার এলাকায় এরকম ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, পাশাপাশি আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য দাপন -কাপন সহ সব ধরনের ব্যবস্থার জন্য সহযোগিতা করছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান চৌধুরী জানান, আমরা খবর শুনে তাদের দাপন কাপনের জন্য প্রথমিক ভাবে আজকে নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে আরো ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে সৃষ্ট দমকা বাতাসে গাছ পড়ে সিদরাতুল মুনতাহা আরিয়া (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় কাটাবিল এলাকার হাসমত আলী ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুনতাহা ওই বাড়ির আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার মেয়ে।
মুনতাহার চাচা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, সবার অগোচরে বিকেলে বাড়ির সামনে গেলে একটি গাছ পড়ে আমার ভাতিজি গুরুতর আহত হয়। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে দমকা ঝোড়ো বাতাসে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌর এলাকায় ব্যাপক গাছপালা ভেঙে পড়েছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। জমির পাকা, আধাপাকা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে।
বৃহম্পতিবার (১৬ নভেম্বর) রাত থেকে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। বিদ্যুতের কারণে বাসাবাড়িতে পানি না থাকায় কষ্ট রয়েছে মানুষ।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে দমকা হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ গেইটের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে বাসাইলের ইউএনও পাপিয়া আক্তার জানান। নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৪০) উপজেলার মিরিকপুর গ্রামের কুসুম মিয়ার ছেলে।
তিনি বাসাইল বাজারের কোটিপতি মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইউএনও জানান, আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। উপজেলা পরিষদ গেইটের সামনে পৌঁছলে দমকা বাতাসে একটি মেহগনি গাছের ডাল ভেঙে তার মাথায় পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসক নাঈম আব্দুল্লাহ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুর রাজ্জাক মারা যান। স্বজনরা এসে তার লাশ নিয়ে গেছে।
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার মনপুরা উপকূল ঘূর্ণিঝড় মধিলির প্রভাবে রাত থকে ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। মনপুরায় লক্ষাধকি মানুষ ঘূর্ণিঝড় মিধিলি আতঙ্কে রয়েছেন। মেঘনা নদী উত্তাল ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলায় মনপুরার সাথে ভোলা ও ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথে সকল লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে উপজলা প্রশাসন। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই উপকূলের লক্ষাধিক বাসিন্দা।
মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন মোংলা শরণখোলা, ও মোরেলগঞ্জের উপকূল এলাকার বাসিন্দারা। সকাল থেকেই মোংলা উপজেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা স্থানীয়দের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস অব্যাহত ছিল। নদনদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে এক থেকে দুই ফুট পানির উচ্চতা বেড়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলার প্রভাবে এখন সাত নম্বর সংকেত দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপকূলবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্র শুকনো খাবার ও পানির ব্যবস্থা করতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার ৯২০ জন সিপিসি সদস্য এবং রেড ক্রিসেন্ট, বিএনসিসিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৫০০ সদস্য উপকূলে কাজ শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা কাজ করছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় নগদ ৯ লাখ টাকা, ৬৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৩৫৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বরিশাল ব্যুরো জানান, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'মিধিলি' ক্রমশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় বরিশাল থেকে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনা বিভাগ বরিশালের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পায়রা সমুদ্রবন্দর ৪ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। তবে বরিশাল নদী বন্দরে ২ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের নদী বন্দরে এসে ফিরে যেতে দেখা গেছে। ভোলার উদ্দেশ্যে নদী বন্দরে আসা যাত্রী মানসুর বেগম বলেন, বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলাম। এখন শশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে নদী বন্দরে এসে দেখি সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আবার বাবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনা বিভাগ বরিশালের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন বলেন, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে অভ্যন্তরীণ ও ঢাকা-বরিশাল রুটের সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়ার আগ পর্যন্ত সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেটে গেলে লঞ্চগুলো চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
ঘুর্ণিঝড় মিধিলি: রামগতিতে অর্ধশতাধিক নৌকা ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, ঘুর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনার নদীর তীরে থাকা অর্ধশতাধিক মাছ ধরার ছোট নৌকা বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় বেশ কয়েকটি নৌকা ডুবে যায়। শুক্রবার কেলে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নৌকাগুলো মানতা সম্প্রদায়ের, তারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এতে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে ওই এলাকার অন্তত ২০ টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, বেদে সম্প্রদায়ের লোকেরা নদীর তীরে ছোট ছোট নৌকা রেখে সেগুলোতে বসবাস করে। ওই নৌকা দিয়ে তারা মাছ শিকার করে। ঝড়ের তাণ্ডবে বেশ কিছু নৌকা ডুবে গেছে, আবার বেশ কিছু নৌকা ভেঙে গেছে। সবমিলিয়ে অর্ধশতাধিক নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
তিনি বলেন, আমার এলাকায় ১৫ থেকে ২০ টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে পুরোপুরি তথ্য এখনো হাতে আসেনি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। কিছু গাছপালাও উপড়ে পড়েছে।
রামগতি নৌ-পুলিশের ইনচার্জ (পরিদর্শক) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে অর্ধশতাধিক নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নৌকাতে কোন লোকজন ছিল না। তাই কোন প্রাণহানির খবর পাইনি। ঝড়ে নদীর তীরে থাকা একটি মামলায় আমাদের জব্দকৃত একটি নৌকা ডুবে গেছে।
সময়ের আলো/এম