ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’: পটুয়াখালীতে ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতির আশংকা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঘূর্ণিঝড় মিধিলি কেটে গেলেও ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন পটুয়াখালীর উপকূলের চাষিরা। শতকরা ১০ ভাগ ফসলের ক্ষতিতে চুরমার হয়ে গেছে তাদের স্বপ্ন।

2023-11-18T14:57:44+00:00
2023-11-18T15:08:07+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’: পটুয়াখালীতে ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতির আশংকা
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩, ২:৫৭ পিএম  আপডেট: ১৮.১১.২০২৩ ৩:০৮ পিএম
ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’: পটুয়াখালীতে ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতির আশংকা
ঘূর্ণিঝড় মিধিলি কেটে গেলেও ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন পটুয়াখালীর উপকূলের চাষিরা। শতকরা ১০ ভাগ ফসলের ক্ষতিতে চুরমার হয়ে গেছে তাদের স্বপ্ন। জেলায় আমন, খেসারিসহ শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। মিধিলির প্রভাবে অতিবৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষেতে জমে থাকা পানি ও ধান হেলে পরায় এর বেশিরভাগই ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
 
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে বৈরী আবহাওয়া আর টানা বৃষ্টির কারণে বিজতলা নষ্ট হওয়ার পর আবার  ঘূর্ণিঝড়ের হানায় ধান ঘরে তোলার আগেই ক্ষেতের মধ্যে তছনছ হয়ে গেছে। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা করা হচ্ছে।
 
সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. খলিল বলেন, ‘৪ একর জমিতে আমন আবাদ করেছি প্রথম একবার চারা নষ্ট হইছে তারপর পোকায় আক্রমণ করছে এহন আবার ঝড় বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমছে আর ধান শুইয়া পড়ছে। বেশিরভাগ ধান চিটা হইয়া যাইবে। আমাগো এহন দুর্ভোগের শেষ নাই। সামনে যে দিন আইতে আছে তাতে আমাগো অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাইতে হইবে। সরকার যদি সহায়তা না করে তয় সামনে চাষাবাদ করতে পারমু না।’
 
শুধু আমনই নয় ক্সতি হয়েছে খেসারী এবং শীতকালীন সবজিরও। এছাড়া বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আগাম তরমুজ আবাদের জন্য যে জমি ও চারা প্রস্তুত করা হয়েছিল তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার গহীনখালী এলাকার কৃষক ফজলু গাজী বলেন, ‘আগাম তরমুজ দেওয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা খরচ করে ১০ একর জমি চাষ করছি বৃষ্টিতে তা নষ্ট হইছে। এহন সামনে কি করমু চিন্তায় আছি।’ 

আরেক কৃষক জসিম হাওলাদার বলেন, ‘২৮ হাজার চারা করছিলাম তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক বৃষ্টিতে নষ্ট হইছে। আবার নতুন  চারা করতে হবে। দুর্যোগের কারণে প্রত্যেকবারই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই।’
 
পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো, নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর জেলায়  ১ লক্ষ ৯০ হাজার ১১৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ ভাগ আমন ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। যা জলমগ্ন ও কাদাতে আছে।যেসব ধান শুয়ে পড়েছে তার অধিকাংশ অপুষ্ট হবে এবং চিটায় পরিণত হবে ফলে উৎপাদনে এর প্রভাব পড়বে। এছাড়া শাকসবজি ও আগাম জাতের তরমুজ চাষাবাদেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে কৃষিপণ্যে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণের পাশাপাশি কৃষকদেরকে ক্ষেত থেকে পানি অপসারণ ও ধান মুঠিবদ্ধ করে বেঁধে দেয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ফসল ছড়াও ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন এলাকার গাছপালা উপড়ে পড়েছে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩১ টি কাঁচা ঘর। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ৬টি ঘর। এছাড়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সকল দপ্তর কাজ করছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন সহ প্রণোদনা প্রদান করা হবে।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   ঘূর্ণিঝড় মিধিলি  পটুয়াখালী  ফসলের ক্ষয়ক্ষতি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: