চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাতাসে গাছের ডাল ভেঙ্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাত থেকে সাবমেরিন ক্যাবলে সন্দ্বীপে আসা জাতীয় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল ওহাব (৬৫) । তিনি সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ঝড়ের সময় তিনি মসজিদে আছরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানিয়েছে নিহতের স্বজনরা। এসময় তিনি বাড়ির নিকটস্থ মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় অত্যধিক বাতাসে গাছের ঢাল ভেঙে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়। রাত থেকে বৃষ্টির বাড়তে থাকে। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বাতাসের তীব্রতা প্রকট আকার ধারণ করে। বাতাসে কয়েকটি ঘর উড়ে গেছে এবং গাছ উপড়ে পড়ে কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় মগধরা ইউনিয়নে গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে আবদুল ওহাবের মৃত্যু হয়। গাছ উপড়ে পড়ে ৬/৭ স্থানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মুছাপুর ইউনিয়নে একটি বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙ্গে যায়। গাছ উপড়ে পড়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে সন্দ্বীপে আসা জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগের সীতাকুণ্ড অংশে সংযোগ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সন্দ্বীপ বিতরণ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইসমাইল জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে লাইন ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা গাছগুলো অপসারণ করে সংযোগ লাইন দ্রুত মেরামতের জন্য কাজ করছি।
অন্যদিকে বৃষ্টি ও বাতাসের প্রভাবে ক্ষেতের পাকা ধান নুইয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। শীতকালীন বিভিন্ন শাকসবজি নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি এলাকার স্লুইসগেট খোলা থাকায় নতুন করে লোনা পানি ঢুকে জমি লবণাক্ত হয়ে গেছে। দ্বীপের বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন উরিরচরের প্রায় ৬ হাজার একর ক্ষেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা ।
ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইসমাইল। তিনি বলেন, যতদূর জেনেছি সন্দ্বীপের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন চাষিরা। এছাড়াও গাছ উপড়ে পরে কয়েকটি ঘরের ক্ষয়ক্ষতি এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা সবগুলো দপ্তর থেকে ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ণয় করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান তিনি ।
সময়ের আলো/আরআই