শীতবস্ত্র কেনাকাটায় সাধারণের ভরসা ‘গাউন পট্টি’

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় প্রকৃতিতে ঘনকুয়াশা জানান দিচ্ছে শীত আসছে। সকাল আর সন্ধ্যায় শীত অনুভূতও হচ্ছে। যদিও শীতের তীব্রতা এখনও বাড়েনি।

2023-11-19T13:49:21+00:00
2023-11-19T13:49:21+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শীতবস্ত্র কেনাকাটায় সাধারণের ভরসা ‘গাউন পট্টি’
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৩, ১:৪৯ পিএম 
শীতবস্ত্র কেনাকাটায় সাধারণের ভরসা ‘গাউন পট্টি’
উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় প্রকৃতিতে ঘনকুয়াশা জানান দিচ্ছে শীত আসছে। সকাল আর সন্ধ্যায় শীত অনুভূতও হচ্ছে। যদিও শীতের তীব্রতা এখনও বাড়েনি। তবে উত্তরের কনকনে শীত মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষেরা। তাই শীতকে সামনে রেখে জমে উঠেছে গাইবান্ধার শীতবস্ত্রের দোকানগুলো।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। মাত্র তিন টাকা থেকে তিনশ টাকার মধ্যে কিনতে পারবেন সোয়েটার। ভাবছেন শায়েস্তা খা’র আমলের গল্প। না, তা নয়। ছোট-বড় সবার পরিচিত গাইবান্ধা শহরের জিপি মার্কেটে সর্বনিম্ন তিন টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ তিনশ টাকার মধ্যে যে কেউ কিনতে পারবেন পছন্দের সোয়েটার- এমনটাই বলছিলেন ব্যবসায়ী মাসুদ মিয়া।

মাসুদ ২২ বছর ধরে ব্যবসা করেন জিপি মার্কেটে। তিনি বলেন, সাধারন মানুষের শীতবস্ত্র কেনাকাটার মার্কেট মুলত গাউন পট্টি, সংক্ষেপে অনেকে বলেন জিপি মার্কেট।

শার্ট, প্যান্ট, জামা-কাপড়সহ গাউনপট্টিতে সারা বছর পুরোনো পোশাক বেচাকেনা হলেও শীত মৌসুমে মানুষের ভীড় জমে ওঠে শীতবস্ত্রের জন্য। এখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী নারী-পুরুষের সোয়েটার, জ্যাকেটসহ সকল প্রকার পুরোনো শীতবস্ত্র পাওয়া যায়।

গাইবান্ধা পৌরসভার পেছনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবন সংলগ্ন মার্কেটটি পুরনো কাপড় ও শীতবস্ত্রের জন্য বিখ্যাত। এই এলাকার বাসিন্দা ও বিশিষ্ট রাজনীতিক জিয়াউল হক জনি বলছিলেন, একটা সময় মুলত নিম্ন আয়ের মানুষ এই মার্কেট থেকে বেছে বেছে কম দামে পছন্দের পোশাক বা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতেন।

এখন নিম্নবিত্ত শুধু নয় মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত সবাই এখান থেকে পছন্দসই জামা কাপড় বা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করেন। নভেম্বর থেকে জানুয়ারী পর্যন্ত এ তিন মাস ভালো কেনা বেচা হয়।

জিপি মার্কেটের ব্যবসায়ী মিনার ও মাসুদ মিয়া জানালেন, তারা চট্টগ্রাম থেকে বেল (গাঁইট) পদ্ধতিতে এসব পোশাক সংগ্রহ করেন। নিয়ে আসার পর ক্রেতারা পছন্দের পোশাক সংগ্রহ করেন। ব্যবসায়ীরা বলছিলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বেলে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

এখানকার ব্যবসায়ীরা কেজি পদ্ধতিতে ওজন করে পোশাক বা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করেন। এক বেলে জামা-কাপড় বা শীতের পোশাক থাকে ৬০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত। সোয়েটার বা জ্যাকেটের আবার আলাদা, আলাদা গাঁট থাকে।

গতবার জ্যাকেটের গাঁট ছিলো ৮ থেকে ১৮ হাজার এবার ১২ থেকে ২৭ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। গতবার সোয়েটারের গাঁটের দাম ছিল ৬ থেকে শুরু করে ১৬-১৭ হাজার পর্যন্ত। এবার দাম উঠেছে ৮ থেকে ১৮-২২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে আসার পর ছোট, বড়, ছেড়া, ফাটা সব বাছাই করার পর খুচরা পর্যায়ে জ্যাকেট বিক্রি হয় ৩০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আর সোয়েটার পাওয়া যায় ৩ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশ স্বাধীনের আগে থেকে এখানে পুরোনো কাপড় বেচাকেনা হয়, তবে দিনদিন চাহিদা কমছে।


সময়ের আলো/এএ/


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: