প্রাণঘাতী বিষাক্ত উদ্ভিদ পার্থেনিয়ামে সয়লাব হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল। বিষাক্ত আগাছা জাতীয় এই উদ্ভিদ মানুষের ত্বকের সংস্পর্শে এলে লাল হয়ে ফুলে গিয়ে প্রচণ্ড চুলকায়। আক্রান্ত মানুষটি ঘনঘন জ্বর, অসহ্য মাথাব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে থাকেন। এমনকি পার্থেনিয়ামের বিষক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ভারতের পুনেতে পার্থেনিয়াম বিষক্রিয়ায় ১২ জন মারা যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া ত্বকের ক্যানসারও হতে পারে পার্থেনিয়ামের সংস্পর্শে এলে।
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে বাঁচতে পারে পার্থেনিয়াম। এই আগাছা দেখতে অনেকটা ধনিয়া গাছের মতো। ছোট ছোট সাদা ফুল হয়। হঠাৎ দেখলে যে কেউ ধনিয়া গাছ মনে করে ভুল করতে পারেন। আগাছাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। গবাদিপশু চরানোর সময় গায়ে লাগলে পশুর শরীর ফুলে যায়। তীব্র জ্বর, বদহজমসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয় পশু। পশুর পেটে গেলে তীব্র বিষক্রিয়া হয়। হয়েছেন কৃষিবিদরাও।
বিষাক্ত এই আগাছা নিয়ে ভীষণ আতঙ্কিত ও শঙ্কিত খোদ কৃষিবিদরাও। তারা এটিকে বিষাক্ত আগাছা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটি শুধু বিষাক্তই নয়, যেকোনো ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতিও করে। ফসলের উৎপাদন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে কোনো ক্ষেতে পার্থেনিয়াম থাকলে। এসব ক্ষতিকর দিক পর্যালোচনা করে কোথাও এই আগাছা দেখামাত্রই পুড়িয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদরা। পোড়ানোর সময়ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। পার্থেনিয়াম কাটার সময় কোনোভাবেই যেন শরীরের সংস্পর্শে না আসে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পার্থেনিয়ামের বিষক্রিয়ায় কারও আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। গবাদিপশুর ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক খবর এখনও পাওয়া যায়নি। তারপরও এখনই সতর্ক হতে হবে ভয়ংকর এই উদ্ভিদ নিয়ে। এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় পার্থেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেসব স্থানে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, সেসব স্থানে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে কৃষকসহ স্থানীয়দের অবহিত করতে হবে।
সময়ের আলো/জেডআই