আমন ধানের ফলন ভালো হলেও দামে অসন্তোষ কৃষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

সারাদেশ

বগুড়ার কাহালুতে হাট বাজারে নতুন আমন ধান উঠেছে। ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকা মণ দরে ধান বেচা কেনা হচ্ছে। আর সুগন্ধি

2023-11-25T20:36:29+00:00
2023-11-25T20:36:29+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
আমন ধানের ফলন ভালো হলেও দামে অসন্তোষ কৃষকের
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩, ৮:৩৬ পিএম 
আমন ধানের ফলন ভালো হলেও দামে অসন্তোষ কৃষকের
বগুড়ার কাহালুতে হাট বাজারে নতুন আমন ধান উঠেছে।  ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকা মণ দরে ধান বেচা কেনা হচ্ছে। আর সুগন্ধি কাটারি ভোগ প্রতি মণ ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা। হাট বাজারে বর্তমান ধানের দামে কৃষকদের মনে অসন্তোষের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কৃষকরা যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই কৃষকদের উৎপাদিত ধানের দাম কম হওয়ায় বিপাকে কৃষক।

সরকার কৃষি উপকরণসহ সারের দাম বাড়ানোর ফলে ধানের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে শ্রমিকের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে একজন কৃষকের পক্ষে খাদ্য উৎপাদনসহ সংসারের যাবতীয় খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে সরকার ধানের দাম ৩০ টাকা কেজি  নির্ধারণ করে দেয়। সেই হিসেবে ১ মণ ধানের বাজার মূল্য ১২০০ টাকা। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য কম দামে  বিক্রি আর কৃষি উপকরণ সহ সার বেশি দামে কিনে কৃষকরা উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নিতে পারছেন না। কৃষক মনে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। 

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ পাইকারি ধানের হাট বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে কাহালুর বিবিরপুকুর হাটে আগাম জাতের রঞ্জিত ধান প্রতি মণ ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকা ও সুগন্ধি কাটারি ভোগ ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে । হাটে ধানের আমদানি কিছুটা কম হওয়ায় স্থানীয় চাতাল মিল মালিকরা এখনই ধান না কিনলেও এক শ্রেণির ফড়িয়ারা এসব ধান কিনছেন। সরকার চলতি আমন মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ধান ও ৪২ টাকা কেজি দরে চাল ক্রয় করার ঘোষণা দিলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বাজারে বর্তমানে ধান চালের মূল্য মণে ১০০ টাকা কমে বেচা কেনা হচ্ছে।

বিবিরপুকুর বাজারের চাতাল ব্যবসায়ী ও ধান ক্রয়ের কমিশন এজেন্ট আলহাজ্ব মো. গোলাম রব্বানী জানান, রবি শস্য চাষের ব্যয় মিটাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান হাট বাজারে বিক্রি করে থাকে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে হাট বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা লাভবান না হলেও লাভের একটি অংশ চলে যায় মধ্য স্বত্বভোগীদের পকেটে।  

কাহালুর পাইকড় ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল, বীরকেদার ইউনিয়নের কাউরাস গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম আলী জানান, এবার আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ১৬-১৮ মণ হারে ধান ঘরে উঠেছে। তবে দাম কম হওয়ায় কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এদিকে বাজারে নিত্য পণ্যের দামের সাথে পাল্লা দিয়ে ধানের দাম না বাড়ায় সংসারের ব্যয় মিটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। তাছাড়া বেশি দামে সার কিনে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তা পুষিয়ে নেয়া যাচ্ছেনা।  

চলতি আমন মৌসুমে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভায় মোট ১৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল উফসী ও অবশিষ্ট জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন। এছাড়া উপজেলার দুর্গাপুর, দেওগ্রাম, জামগ্রাম, মালঞ্চা, এরোইল বাজার, মুরইল, পাইকড় আড়োলা, তিনদীঘি,ও  শেখাহার হাটে নতুন আমন ধান কেনা বেচা হচ্ছে।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   আমন ধান  বাম্পার ফলন  দামে নিয়ে অসন্তোষ কৃষকের  বগুড়া 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: