পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের একটি কারগারে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এ ছাড়া কারাগারটি থেকে পালিয়ে গেছেন ১ হাজার ৮৯০ জন বন্দি। গত রোববার ভোরের দিকে এ হামলা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদাবায়ো হামলার জন্য সেনা বাহিনীর ‘বিপথগামী’ সেনাদের দায়ী করেছেন।
সেনা বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল ইসা বানগুরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৩ জন সেনা সদস্য, ৩ জন হামলাকারী বিদ্রোহী সেনা, একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন বেসামরিক এবং একজন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৮ জন এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৩ জন হামলাকারী সেনাকে। ওই কারাগারটিতে রাজধানী ফ্রিটাউনের বেশ কাছে। সেনা বাহিনী কারাগারটি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত।
কর্নেল বানগুরা জানান, হামলার আগে আতঙ্ক তৈরি করতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন বিদ্রোহী সেনারা। পরে আর্মি ট্রাকে চেপে কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে সেখানে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং বিভিন্ন সেলের ফটক ভেঙে ফেলে। সেনাবাহিনীর বেশির ভাগ সদস্য সরকার ও প্রেসিডেন্টের প্রতি অনুগত নয় বলেও জানান তিনি।
সোমবার কারাগারটি পরিদর্শন শেষে রয়টার্স প্রতিনিধি জানান, সেখানকার প্রায় সব দরজা ও ফটক ভাঙা। এখানে সেখানে পড়ে আছে কংক্রিটের আবর্জনা। রোববারের হামলার পর দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছিল সিয়েরা লিওনের সরকার। সোমবার থেকে তা শিথিল করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদাবায়ো বলেন, হামলার ঘটনার তদন্তে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। গত কয়েক ঘণ্টায় কয়েকজন বিদ্রোহী সেনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরও শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। সরকার দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
অন্যদিকে বন্দিদের মধ্যে যারা পালিয়ে গেছেন, তাদের কারাগারে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। সিয়েরা লিওন সংশোধনাগার সংস্থার মহাপরিচালক কর্নেল শেখ সোলাইমান মাসাকুই বলেন, হামলাকারীরা একটি রকেট লঞ্চার দিয়ে প্রথমে কারাফটক ভেঙে ফেলে।
এরপর সামনের ফটক দিয়ে প্রবেশ করে। ফ্রিটাউনে সেনাছাউনিতে বন্দুকধারীদের হামলা ও একটি অস্ত্রাগারে লুটের চেষ্টার ঘটনার পর গত রোববার সিয়েরা লিওনজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়।
সময়ের আলো/আরএস/