পাকিস্তানে গেল বছর ৭৮৯টি সন্ত্রাসী হামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৫২৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এই সংখ্যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার জন বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। খবর ডনের।
ওই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ১ বছরে প্রাণহানির এ সংখ্যা ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে এই মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ বলে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে।
২০২১ সাল থেকেই পাকিস্তানে সহিংসতা বাড়তে শুরু করে। সহিংসতা বাড়ার এ ধারা অব্যাহত আছে আর গেল বছর তা আরও বেড়ে আগের দুই বছরকে ছাড়িয়ে গেছে।
২০২৩-এ খাইবার পাখতুনখওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি প্রাণহানি ও ৮৪ শতাংশ হামলার ঘটনা ঘটেছে এ দুটি প্রদেশে। এগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসী হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানগুলোও ধরা হয়েছে। পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশ ছিল অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ। গত বছরের মোট প্রাণহানির মাত্র ৮ শতাংশ এই প্রদেশ দুটিতে ঘটেছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) এর করা বার্ষিক এই নিরাপত্তা প্রতিবেদনের তথ্যগুলো দেখিয়েছে, ২০২৩ সালে দেশটিতে আগের বছরের তুলনায় সহিংসতা ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জঙ্গি হামলা বেড়েছে ৬৯ শতাংশ। গত ১০ বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে সহিংসতা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সিআরএসএস।
২০২২ সালে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় দেশটিতে ৯৮০ জন নিহত হয়েছিল, কিন্তু ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৫২৪ জনে দাঁড়ায়। গত বছর সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বেলুচিস্তানে, এখানে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির হার ৫৭ শতাংশ ছিল। এরপর আছে খাইবার পাখতুনখওয়া, এখানে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। পাঞ্জাবে সহিংসতা ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় প্রাণহানির সংখ্যা অনেক কম। সিন্ধুতে প্রাণহানি বেড়েছে ২৬ শতাংশ।
সময়ের আলো/জেডআই