কাজে আসছে না ১৩ কোটি টাকার স্যানিটারি ল্যান্ডফিল

আবদুল বাশির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

সারাদেশ

কাগজে-কলমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারি ল্যান্ডফিল (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে। করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের

2023-12-01T07:48:57+00:00
2023-12-01T07:48:57+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কাজে আসছে না ১৩ কোটি টাকার স্যানিটারি ল্যান্ডফিল
রাস্তার পাশেই ফেলা হচ্ছে পৌরসভার সব বর্জ্য
আবদুল বাশির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৭:৪৮ এএম 
কাগজে-কলমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারি ল্যান্ডফিল (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে। করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১ বছর পর শেষ হয় নির্মাণকাজ। কিন্তু প্রস্তুত হয়ে পড়ে থাকলেও কোনো কাজেই আসছে না আধুনিক ও পরিবেশসম্মত উপায়ে দৈনিক ২৩ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই স্যানিটারি ল্যান্ডফিল। বর্তমানে পৌরসভার সব বর্জ্য ও ময়লা-আর্বজনা ফেলা হচ্ছে পৌর এলাকার নয়াগোলায় পুলিশ লাইন্সের বিপরীতে খোলা জায়গায়। সেখান থেকে আবাসিক এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ ছাড়াও নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় নির্মাণের ৩ বছর পরও কাজে আসছে না প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হওয়া এই স্যানিটারি ল্যান্ডফিল। খোলা জায়গায় প্রধান সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে পৌরসভার সব ধরনের বর্জ্য ও ময়লা-আর্বজনা। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে পৌরবাসী। স্থানীয়দের হাজারো বাধা ও অভিযোগ সত্ত্বেও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ফেলা হচ্ছে এসব বর্জ্য। এর ফলে নানা রকম রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা চিকিৎসকদের।

পৌর এলাকার বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন থেকে শুনে আসছি সরকারি প্রকল্প হয়েছে। তাই এখানে খোলা জায়গায় আর ময়লা ফেলা হবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। পুরো পৌরসভায় যত ময়লা আর্বজনা হয় প্রতিদিন তা জমা করে এনে এখানে ফেলা হয়। বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে রহনপুর এলাকায় অটোতে করে নাক ঢেকে যাচ্ছিলেন আজিজা আহমেদ। তিনি বললেন, যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে তার আধা কিলোমিটার দূরেও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। এ সময় নাক ঢেকে যেতে হয়। মূল সড়কের পাশে হওয়ায় যাত্রীদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই গন্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। আমাদের দাবি, এমন আবাসিক এলাকায় ময়লা-আর্বজনা না ফেলে শহরের বাইরে ফেলা হোক। 

নয়াগোলা এলাকার গৃহবধূ রোজিনা বেগম বলেন, সবসময়ই দুর্গন্ধ ছড়ায়। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলে তা চরমে পৌঁছায়। ছেলে-মেয়েরা ঘনঘন নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় পড়েছি। জেলা শহরের দ্বারিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা আহমেদ আলী বলেন, স্যানিটারি ল্যান্ডফিলটি অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা আছে। কিন্তু এখানে কোনো কার্যক্রম নেই। তা হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এমন ল্যান্ডফিল কেন করা হলো তা বোধগম্য নয়। কী দরকার ছিল কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এভাবে ফেলে রাখার! 

স্যানিটারি ল্যান্ডফিল প্রস্তুত থাকলেও কাজে আসছে না বলে স্বীকার করেছেন খোদ এর তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াসিম। তার কথায়, প্রায় দুই বছর ধরে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও এখানে ময়লা-আর্বজনা ফেলা হয় না। আপাতত নয়াগোলায় খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে পৌরসভার সব বর্জ্য। কবে নাগাদ এখানকার কার্যক্রম শুরু হবে তাও জানি না।

এ বিষয়ে কথা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কারণে স্যানিটারি ল্যান্ডফিলটি পুরোপুরি চালু করা যায়নি। তবে বর্তমানে সেখানে মনুষ্যবর্জ্য ফেলার কাজ চলছে। আশা করি, খুব শিগগির ল্যান্ডফিলটির কার্যক্রম শুরু হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, (বিএমএ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম রাব্বানী বলেন, খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা হলে আশপাশে বসবাসকারী মানুষের জন্য ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যান্য বর্জ্যরে পাশাপাশি সেখানে মেডিকেল বর্জ্য থাকলে তা আরও ভয়াবহ হতে পারে।

পরিবেশ দূষণের কথা জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, রাস্তার পাশেই বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়ে একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছে, কিছু দিনের জন্য এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। তা ছাড়া আবর্জনা ফেলার জন যে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে পচনশীল দ্রব্য ছাড়া ফেলা যাবে না। তাই একটু সময় লাগছে বলে তারা আমাকে জানিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. সালেহ উদ্দীন বলেন, আমাদের লোকবল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম সংকট রয়েছে। পাশাপাশি পৌরবাসীর মাঝে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য বসতবাড়ি থেকেই আলাদা করে ডাস্টবিনে ফেলার বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। প্রধানত এই দুই কারণে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল চালু করতে পারছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। বর্জ্য আলাদা করে ফেলতে বাড়ি বাড়ি আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান ও জনসচেতনতা তৈরিতে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১২ হাজার আধুনিক ও বর্জ্য পৃথক রাখার ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: