অনলাইনে মধু বিক্রি করেন জাতীয় ক্রিকেট দলের নেট বোলার ইয়াছিন মিয়া রাতুল। আর এ মধু বিক্রির টাকায় চলে তার সংসার। এতে করে সময় মত প্র্যাকটিস করা হয়ে ওঠে না। ঘরে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও একমাত্র ছোট বোনের পড়ালেখার খরচা নির্বাহ করতে হয় আট বছর বয়সে পিতৃহারা রাতুলকে। জরাজীর্ণ একটি ঘরে কোন রকমে রাত কাটে তাদের। এ রকম শত প্রতিকূলতার মাঝেও একজন ভালো ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ২০ বছর বয়সী রাতুল। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যাচ্ছে। এ বছর কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ২য় বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছে তিনি।
বলছিলাম কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের মৃত বিপুল মিয়ার ছেলের কথা। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ- আফগানিস্তান সিরিজে ব্যাটারদের নেটে বোলিং করেন রাতুল। তার বোলিং এ মুগ্ধ হয়ে বিসিবির নেট বোলিং এ অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাকে। এরপর থেকে মিরপুর একাডেমী মাঠে নিয়মিত বোলিং করে যাচ্ছেন বাঁহাতি এ পেসার।
এর আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ও বিপিএলেও নেট বোলিং করেছেন রাতুল। রাতুলের নেট বোলিং এর প্রশংসা করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তাকে ভারতের ভূবনেশ্বর কুমারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রাতুল বর্তমানে ঢাকার দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগে ইয়ং প্যাগাসাসের হয়ে খেলছেন।
রাতুল জানান, তার পিতা বিপুল মিয়া পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান ছিলেন। এ কাজ করেই চলতো তাদের সংসার। কিন্তু বিধিবাম কাজ করতে গিয়ে ২০০৮ সালে বিদ্যুৎপৃষ্টে মারা যান তার পিতা বিপুল মিয়া। তখন রাতুলের বয়স ছিলো মাত্র আট বছর। সে সময়ে রাতুলের মা মোছা. রানু আক্তার অন্তঃসত্ত্বা থাকায় তাদের আশ্রয়ের নিতে হয় জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নিলম্বী গ্রামের মামার বাড়িতে। সেখানেই লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রেমে পড়েন রাতুল। নজরে পড়েন কিশোরগঞ্জের ক্রিকেট প্রশিক্ষক আশরাফ উদ্দিন স্বপনের।
বর্তমানে রাতুল নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি এইচএসসি পড়ুয়া একমাত্র ছোট বোন খাদিজাতুল কোবরা মীমকেও লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি দুজনের পড়ালেখার খরচ সব মিলিয়ে জীবন-যুদ্ধে অদম্য এ তরুণ। সংসারের খরচ যোগাতে এলাকা থেকে মধু সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রি করেন। এমতাবস্থায় তাকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাছাড়াও এ টাকায় যে আয় হয় তা দিয়ে নিজের শরীরের ফিটনেস ঠিক রাখতে চিকিৎসকের দেওয়া রুটিন মত খাবার খেতে না পেরে অপুষ্টিতে ভোগতে হচ্ছে। রাতুলের বাড়ির জরাজীর্ণ ঘরটিও টাকার অভাবে ঠিক করতে পারছেন না।
কিন্তু দেশের হয়ে খেলতে চান রাতুল, উপহার দিতে চান ভালো ক্রিকেট। তার এ স্বপ্নের দরজায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র। নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে ঢাকায় থাকার মত ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন। এ রকম পরিস্থিতিতে রাতুল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ও সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।
সময়ের আলো/আরআই