বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একে এম জাহাঙ্গীরের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। শনিবার (২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম বলেন, একেএম জাহাঙ্গীর ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকেও বিতর্কিত করেছেন। গেল সিটি নির্বাচনকেও বিতর্কিত করতে দলীয়-শৃঙ্খলা পরিপন্থী বক্তব্য দিয়েছেন। জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে মহানগর কমিটি থাকলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অবিলম্বে মহানগর কমিটি ভেঙে সিটি মেয়র খোকনের নেতৃত্বে নতুন মহানগর কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।
মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিচ উদ্দিন শহীদ বলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হয়ে ছেলের বিয়েতে পরিষদ থেকে টাকা ব্যয় করেছেন একে এম জাহাঙ্গীর। তার মতো নৌকার বিরুদ্ধাচরণ ব্যক্তির হাতে মহানগর আওয়ামী লীগ নিরাপদ নয়।
মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, ১২ জুনের সিটি নির্বাচন হয়েছিল ইভিএম পদ্ধতিতে। সে নির্বাচন সম্পর্কে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর প্রশ্ন তুলেছেন। জাতীয় নির্বাচনেও প্রশাসন দিয়ে ব্যালট ভরার কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বরিশালের হাজার হাজার নেতাকর্মী জাহাঙ্গীরের অপসারণ ও মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক হারুন, অ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম, শ্রমিকলীগ নেতা শাজাহান হাওলাদার, কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা অসীম দেওয়ান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন ও মঈন তুষার প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় মিছিলে মহানগর সভাপতি জাহাঙ্গীরের অপসরণ দাবি করে শ্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৯ নভেম্বর) শান্তি সমাবেশের ব্যানারে নগরীতে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে শোডাউন দেয়া হয়।
ওই সমাবেশে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমাদের পাকা ফসল কেটে আর একজনে ঘরে তুলবে তা হতে দেয়া হবে না। আমরা কোন বহিরাগতকে সুযোগ দেব না। সিটি নির্বাচনে আমাদের পাখা বানিয়েছে। ওই নির্বাচনের মত আর খালি মাঠে গোল দিতে দেব না। এবার খেলা হবে। জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাবে। প্রশাসন ব্যবহার করে বাক্স ভরবেন, সেই সুযোগ নেই।’
সময়ের আলো/আরআই