লবণ আমদানির খবরে চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

সারাদেশ

বাঁশখালীর লবণ চাষিরা মৌসুমের শুরুতেই হতাশা নিয়ে লবণ উৎপাদনের কাজে নেমেছেন। চলতি মৌসুমে এক কানি লবণ মাঠ বর্গা নিতে খরচ

2023-12-02T20:30:30+00:00
2023-12-02T21:09:50+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
লবণ আমদানির খবরে চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:৩০ পিএম  আপডেট: ০২.১২.২০২৩ ৯:০৯ পিএম
লবণ আমদানির খবরে চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
বাঁশখালীর লবণ চাষিরা মৌসুমের শুরুতেই হতাশা নিয়ে লবণ উৎপাদনের কাজে নেমেছেন। চলতি মৌসুমে এক কানি লবণ মাঠ বর্গা নিতে খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। জীবিকার তাগিদে রোদে পুড়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লবণ উৎপাদন করেন তারা। মাঠের বিভিন্ন গর্তে গত বছরের উৎপাদিত লবণ রয়ে গেছে হাজার হাজার টন। এমন পরিস্থিতিতে লবণ আমদানির খবরে চিন্তায় লবণ-চাষিদের কপালে ভাঁজ পড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, চাষিরা দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করছেন লবণ উৎপাদনের কাজে। উপজেলার ছনুয়া, গণ্ডামারা, পুঁইছড়ি, পশ্চিম মনকিচর, কাথরিয়া, সরল ও খানখানাবাদ এলাকায় নতুন লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। সাগর উপকূলে লবণ উৎপাদনে চাষিরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামলেও ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে লবণ উৎপাদন কিছুটা পিছিয়ে পড়ে বলে উপকূলের চাষিরা জানিয়েছেন।

জানা যায়, গত ২০২২-২০২৩ মৌসুমে লবণ চাষের পরিধি ও লবণ চাষি ও মৌজা এবং ঘোনার সংখ্যা বেড়েছে লবণ চাষের মাঠের পরিমাণ বেড়ে ৬৬ হাজার ২৯১ একরে দাঁড়িয়েছিল। অপর দিকে লবণ চাষির সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৩৯ হাজার ৪৬৭ জনে পৌঁছে। অন্যদিকে দুটি নতুন মৌজাসহ গত মৌসুমে মৌজার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ এবং লবণ চাষে ঘোনা আগের ৮৮৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫৯টিতে।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর লবণ উৎপাদনের অফিসিয়ালি ১৫ নভেম্বর থেকে পরের বছরের ১৫ মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদন মৌসুম ধরা হয়। বছরজুড়ে মাঠে উৎপাদিত লবণের মূল্যে বেশি পাওয়া ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা আগাম লবণ উৎপাদনে মাঠে কাজ শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে (২০২৩-২০২৪) দেশে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন।

ছনুয়া ইউনিয়নের ছোট ছনুয়া এলাকার লবণ চাষি আবদুল মালেক বলেন, আগে আমাদের এলাকায় লবণ উৎপাদন করা হতো সাগরের পানি দিয়ে। গত কয়েক বছর ধরে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে লবণ চাষ শুরু হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে লবণের ফলন বেশি হয়।

জলকদর খালে ট্রলারে লবণ ভরছেন চাষি আবদু শুক্কুরের শ্রমিকরা। তিনি বলেন, ট্রলারে করে এই লবণ চট্টগ্রামের পটিয়া ও নারায়ণগঞ্জের লবণ মিলে যাবে। গত মৌসুমে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি না হওয়ায় চাষিরা ভালো দাম পেয়েছেন। এ কারণে চাষিরা আবারও খুশিমনে লবণ চাষ করতে মাঠে নেমেছেন।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের কাছে চাহিদা বেশি উৎপাদন কম— এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে অগ্রিম লবণ আমদানি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মিল-মালিকদের একটি চক্র। এ অভিযোগ লবণ-চাষিদের। তারা দেশে লবণের ঘাটতি দেখিয়ে লবণ আমদানির জন্য সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। চাষিদের দাবি, দেশে যে পরিমাণ লবণ উৎপাদন হচ্ছে, তাতে কোনো ঘাটতিই থাকবে না।

জানা গেছে, একসময়ে দেশে প্রতি বছর সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে লাখ লাখ মেট্রিকটন সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করত অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া মিস ডিক্লারেশনের মাধ্যমেও লাখ লাখ মেট্রিকটন লবণ আমদানি করত সে কারণে দেশে লবণ উৎপাদন করে চাষিরা লাভের মুখ দেখত না। এ নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে সরকার লবণ শিল্প ও চাষিদের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির উপরে শুল্কহার ৩২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮৯ শতাংশ করেছেন।

এ কারণে আমদানিকৃত লবণের দাম বেশি হওয়ার কারণে আমদানিকারকগণ অতিরিক্ত লবণ আমদানিতে নিরুৎসাহিত হওয়ায় দেশে লবণ শিল্পে প্রাণ ফিরে আসে। এ ছাড়া বিসিকের উদ্যোগে নামমাত্র সুদে গত মৌসুম থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অপর দিকে চাষিরা রেয়াতি সুদে এক লাখ ৫৩ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুবিধাও দিয়ে আসছেন সে কারণে চাষিদের লবণ চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

এদিকে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মাঠে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯২০ মেট্রিকটন এবং মিলারদের কাছে রয়েছে আরো ১ লাখ ৮ হাজার ১৩ মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে বলে বিসিক সূত্রে জানা গেছে।

বাঁশখালী লবণ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি আনছুর আলী তালুকদার দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্তত এক মাস আগে মাঠে নেমেছেন লবণ-চাষিরা। কিন্তু সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করছে, এ খবর পেয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে চাষিদের মাঝে। ইতোমধ্যে ১ লাখ টন লবণ বিদেশ থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরও লবণ আমদানি করা হলে চাষিরা আর মাঠে নামবেন না। 

তিনি আরও বলেন, লবণ আমদানির কথা ছড়িয়ে দিয়ে কিছু মিলমালিক চাচ্ছেন চাষিরা লবণ উৎপাদনে মাঠে না নামুক। তখন দেশটি লবণ আমদানি নির্ভর হয়ে গেলে মিলমালিকরা লুটপাট করে খেতে পারবেন। গত মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় এবার আরও বেশি জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এর উপ-মহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভুঁইয়া দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ১ লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমদানির প্রভাব লবণ-চাষিদের ওপর  পড়বে না। এবার যে লবণের ঘাটতি হয়েছে তাতে বাজারে লবণের ঘাটতির দেখা দেয়ার আগেই ২০২৩-২০২৪ মৌসুমের লবণ উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। সে কারণে দেশে চাহিদার লবণের কোনো ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সময়ের আলো/আরআই




  বিষয়:   লবণ উৎপাদন  লবণ আমদানি  বাঁশখালী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: