চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হুইপ সামশুল হক চৌধুরী নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির নোটিশে আদালত এসে ভুল শিকার করেছেন। এছাড়াও এই ধরনের ভুল আর করবেন না বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে পটিয়া-১২ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও চন্দনাইশ কোর্টের সিনিয়র জজ শেখ মো. মহিবুল্লাহ'র আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী অনি গুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, দুপুরে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি সশরীরে হাজির হন। দীর্ঘ ৪০ মিনিট সময় ধরে চলা এ শুনানিতে আদালতে সামশুল হক চৌধুরী এমপি তার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি (হুইল) আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল হবে না বলে আদালতকে জানান।
এছাড়াও পটিয়ায় অন্যান্য প্রার্থীরাও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।
তিনি আরো বলেন, পটিয়া আদালত থেকে কোন আদেশ জারি করা হবে না। আমরা তার সব ধরনের কাজগত্র চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসে পাঠিয়ে দিব। সেখান থেকেই এ ব্যাপারে আদেশ জারি করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করায় কারণ দর্শানোর নোটিশ গত শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান শেখ মো. মহিবুল্লাহ।
হুইপের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে গত ৩ ডিসেম্বর সামশুল হক চৌধুরী এমপি'র আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন ও তার ভাগিনা লোকমান খান তার পক্ষে সময়ের আবেদন জমা দিয়েছিলেন আদালতে। সেদিন আদালত তার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আজ (মঙ্গলবার) সামশুল হক চৌধুরী এমপিকে আদালতে সশরীরে হাজির হতে আদেশ দেন।
এদিকে পটিয়া আদালতে সামশুল হক চৌধুরী এমপি উপস্থিত হবেন জেনে সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন পটিয়া আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান কয়েকশত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। এইদিন জেলা থেকে আনা অতিরিক্ত পুলিশ ও মোতায়েন ছিল।
এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যখন তিনি আদালত গেইটে নামেন তখন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। পুলিশ পাহারায় এসে আবার কড়া পুলিশ পাহারায় তিনি দ্রুত পটিয়া ত্যাগ করেন।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। তার বিপরীতে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে পটিয়ায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন জাতীয় পার্টি থেকে আসা সামশুল হক আঙ্গুল পুলে কলা গাছ বনে গেছেন। তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহেরুলকে সমর্থন না দিয়ে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করা মানে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা।
সময়ের আলো/আরআই