বগুড়ার আদমদীঘিতে চোর সন্দেহে তিন যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে নির্যাতনের শিকার জান্নাতুল নাঈম নামের এক যুবকের বাবা আশরাফুল ইসলাম তিনজনের নামে থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়েই পুলিশ তদন্তে নামেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কদমা গ্রামের রেনুকা নামের এক বিধবা নারীর বাড়ি থেকে হাঁস চুরির ঘটনায় চোর সন্দেহে একই মহল্লার আশরাফুল ইসলামের ছেলে জান্নাতুল নাঈম, আবু তালেবের ছেলে সাজ্জাদ ও ময়েজ আলীর ছেলে ইমরানকে তুলে আনা হয়। গত সোমবার (৪ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে তারা রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে নাঈমের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে কৌশলে দুইটি মোটরসাইকেলে করজবাড়ি গ্রামের পাপ্পু ও কদমার সাগর নামের দুই যুবক তাদের তুলে নিয়ে সান্তাহার পৌর শহরের যোগিপুকুর এলাকায় পল্লী চিকিৎসক আমজাদের বাসার দ্বিতীয় তলায় এনে তার ছেলে মামুন হোসেনের নির্দেশে নির্যাতন শুরু করে। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা আটক রেখে বৈদ্যুতিক তার, হাতুড়ি ও রড দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী জান্নাতুল নাঈম জানান, নির্যাতনের পর তাদের ব্যথানাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। সেই সাথে চুরির বিষয়টি শিকার করার জন্য তিন দিন সময় দেন এবং নির্যাতনের বিষয়টি বাহিরে প্রকাশ করলে তাদের হত্যার পর বস্তাবন্দী করে লাশ ভেসে দেওয়া হবে বলে হুমকিও দেন। এরপর তাদের মোটরসাইকেল যোগে ওইদিন রাত ১১টায় তাদের বাড়ির সামনে রেখে যান। পরেরদিন মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে আহত তিন যুবক পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তাদের আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
অভিযুক্ত মামুন হোসেন জানান, ‘আমার আপন চাচি রেনুকার হাঁস চুরির অভিযোগে আমার ফুফাতো ভাই পাপ্পু ও সাগর ওদের ধরে নিয়ে এসেছিল। শুধু হাঁসই নয় বাড়ি থেকে আরও কিছু চুরি করেছে। আমি শুধু তাদের ওইসব ফিরে দেয়ার কথা বলেছিলাম। আমার ভাইয়েরাই তাদের মেরেছে। আমি শুধু একজনের পায়ে একটা মেরেছিলাম। এটাই দোষের হয়ে গেছে। এটা নিয়ে কালকে রাতে থানায় জানানো হয়। থানায় বসে এটা মিটমাট করার কথা।’
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আরআই