চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেসরকারি বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে চলছে রমরমা ব্যবসা। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স থাকলেও বেশিরভাগেরই নেই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই। ফলে মাঝেমধ্যেই ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর অভিযোগ, অদক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে পরিচালিত অধিকাংশ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভুল চিকিৎসায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবৈধ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে মোট ১৪৪টি। এর মধ্যে ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স থাকলেও বেশিরভাগেরই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই। আবার অনেকের লাইসেন্স থাকলেও সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। লাইসেন্স নবায়ন না করেই চালানো হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিজস্ব চিকিৎসক, ডিপ্লোমা নার্সসহ যে পরিমাণ জনবল থাকার কথা তা নেই অনেকগুলোতে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক চলছে প্রশাসনের নাকের ডগাতেই। ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর পরিস্থিতিও একই রকম। অধিকাংশ ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে নেই ডিপ্লোমা পাস করা প্যাথলজিস্ট, টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। এরপরও বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান।
কথা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই জেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের বেশিরভাগেরই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই। অথচ ছাড়পত্র না নিয়ে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চালানোর কোনো সুযোগ নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে আগে ছাড়পত্র দিতে পারতাম না। চলতি বছরের জুন মাস থেকে ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯টি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। অনেকেই আবার ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে।
সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাহমুদুর রশিদ জানান, জেলার সব ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। যাদের লাইসেন্স নবায়ন নেই বা লাইসেন্স নেই তাদের দ্রুত লাইসেন্স নবায়ন ও লাইসেন্স করতে বলা হয়েছে। তারা নির্দেশনা না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ রয়েছে, কমিশনের লোভে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে একশ্রেণির অসাধু দালাল চক্র। ফলে উন্নত চিকিৎসাসেবার নামে মানুষ ঠকানোর ব্যবসায় পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে প্রতিনিয়ত অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এ ছাড়া যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স আছে সেগুলোও বছরের পর বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন না করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
গোমস্তাপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র রহনপুরে রাজ ডায়াগনোস্টিক সেন্টার চলছে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী ধরে এনে কারণে-অকারণে মানুষের শরীরের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মধ্য দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এখানে।
সময়ের আলো/আরএস/