নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগের উত্তরে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জানান, তিনি রাজনীতিবিদ হিসেবে বা একজন প্রার্থী হিসেবে মাত্র দু’সপ্তাহ। কিন্তু এর আগেই একজন ফুটবলার হিসেবে বা ফেসবুকের একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে, তিনি যেখানেই দাঁড়ান, সেখানেই কিছু মানুষ এসে যায়। পথসভার মাধ্যমে জনগণের চলাচলের অভিযোগের সাথে তিনি কোন ভাবেই জড়িত নন। আর যেহেতু ওখানে কোন কর্মসূচি ছিল না, তাই পুলিশকে জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আইনের মানুষ হিসেবে আমার সবসময়ই লক্ষ্য থাকে যেন কোনো বিধি লঙ্ঘিত না হয়। আমি আমার ব্যাখ্যা দিয়েছি, এখন বাকিটা আদালতের বিষয়।
গত ৪ ডিসেম্বর নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি হবিগঞ্জ সদর আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সবুজ পাল।
নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির পত্রে বলা হয়, গত ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চুনারুঘাট উপজেলার আসামপাড়া বাজারে এক নির্বাচনী জনসভা করেন ব্যারিস্টার সুমন। প্রথমত, এটি একটি জনাকীর্ণ বাজার। দ্বিতীয়ত, উক্ত নির্বাচনী সমাবেশের জন্য বাজারের তিন রাস্তার মোড়সহ উক্ত বাজারের ওপর দিয়ে চলাচলকারী প্রধান তিনটি সড়ক বন্ধ করে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়। তৃতীয়ত, উক্ত নির্বাচনী সমাবেশের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি। ফলে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি-০৬ (খ, গ, ঘ) ভঙ্গ করা হয়েছে বলে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে ব্যারিস্টার সুমনকে এই কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার সুমন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
সময়ের আলো/আরআই