ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে চট্টগ্রামে গত দুই দিন ধরে শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সারারাত হয়েছে মুষলধারায় বৃষ্টি। মুষলধারা এই বৃষ্টি পড়েছে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত। এদিকে টানা মুষলধারা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার শীতকালীন সবজি ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা বলছে সদ্য রোপণ করা বিচি জাতীয় সবজি বেশি ক্ষতি হবে। এসব সবজির মধ্যে আলু, সিম, বাদাম ও শালগম নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। এছাড়া মাঠে কেটে রাখা আমন নিয়েও চরম বিপাকে পড়ছেন তারা।
দেখা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার শঙ্খ নদীর পাড়ঘেঁষা কৃষিজমিগুলো শীতের শুরু থেকে সবজিতে ভরে যায়। এছাড়াও দোহাজারী লালুটিয়ার চর, চাগাচর, দিয়াকুলসহ শঙ্খনদীর চরে সবজি উৎপাদন হয়। উপজেলার চর বরমা এলাকার সেনার চর এই উপজেলার সবজির প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ঘূর্ণিঝড় হামুন, মিধিলির কারণে উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় শীতকালীন সবজি উৎপাদন দেরীতে হয়েছে। এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড় হামুনে নষ্ট হয়েছে আগাম সবজি। পরে মিধিলির প্রভাব কাটিয়ে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী পুরো এলাকায় শীতকালীন সবজি সিম, লাউ ও বেগুন, মুলাসহ নানা রকম সবজিতে ভরে যায়। মৌসুমি মরিচ, আলু, মিষ্টি আলু, বাদাম, শালগম সবেমাত্র রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অসময়ের মুষলধারা বৃষ্টির কারণে এসব শীতকালীন মৌসুমি সবজি নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা। কেউ কেউ সবজি রোপণ করেছেন সপ্তাহখানেক আগে। এছাড়া অনেক কৃষক ক্ষেত তৈরি করছেন।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) বৃষ্টি বন্ধ হলেও আকাশ রয়েছে মেঘলা। রাতে ফের বৃষ্টি হলে অন্য অন্য সবজিরও বীজতলা টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা কমে যাবে। এদিকে টানা বৃষ্টিতে রোপণকৃত আলু ও চীনা বাদাম নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
চর বরমা এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আলু ও সিম বিচি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বেশি নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে মৌসুমি মরিচ। এসব মরিচ নষ্ট হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চর এলাকার কৃষকরা।
চন্দনাইশ উপজেলার উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ আরিফ বলেন, আমন মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় বৃষ্টির কারণে সবজির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আলুর ক্ষতিটা একটু বেশি হতে পারে। আমরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারে নির্দেশনা দিয়েছি। সব এলাকার রিপোর্ট নিচ্ছি। কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করি, বৃষ্টি আর না হলে সবজির তেমন ক্ষতি হবে না।
সময়ের আলো/আরআই