কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়ার তিন বছর পর ভারত থেকে সুস্থ হয়ে ফিরলো মানসিক ভারসাম্যহীন বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ নয়ন মিয়া (৩৩) নামে এক যুবক।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন ওই যুবক। এসময় তার বাবা রহিদুল হক তার সঙ্গে ছিলেন।
বাংলাদেশি যুবক নয়ন মিয়াকে হস্তান্তরের সময় তিস্তার (৬১ বিজিবি) বুড়িমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ৮৪২/১ এক্স আইসিপি বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাফিজুর রহমান, স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ মুর হাসান কবীর ও ভারতের মেখলিগঞ্জ পুলিশের সিএস তালুকদার, আইসি ইমিগ্রেশন চ্যাংরাবান্ধার নেস্ট সি সমীর তামাং, ভারতীয় বিএসএফের ইনএসপিআর রাজবীর সিং এর উপস্থিতিতে ওই যুবককে হস্তান্তর হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম জেলা ফুলবাড়ী উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর তার বাবার রহিদুল হক তার ছেলের খোঁজ পান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের একটি মানসিক হাসপাতালে। ভারত ও বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পর শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ভারত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তাকে হস্তান্তর করেন।
হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে রহিদুল হক বলেন, ‘আমাদের ছেলে নয়ন মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝে মধ্যে সে বাড়ি থেকে চলে যেত। দু-এক দিন পর আবার ফিরে আসত। শেষবার প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর আগে বাড়ি থেকে চলে যায় কিন্তু আর ফেরেনি। এরপর বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ করা হয় তার ছবি। পরে আমি জানতে পারি সে ভারতে অবস্থানরত রয়েছে। আমি ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা করে ভারতের পুলিশের সহযোগিতায় নয়নকে ফিরে পেয়েছি। আমার ছেলে বর্তমানে এখন সুস্থ।
বুড়িমারী স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুর হাসান কবির বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন বাংলাদেশি যুবক হারিয়ে যাওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি মানসিক হাসপাতালে থাকার পর সুস্থ হয়। পরে সে পরিবারের খোঁজ পান। ভারতীয় পুলিশের সহায়তা ওই বাংলাদেশি যুবককে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
সময়ের আলো/আরআই