নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের ব্যাখ্যা তলব করেছে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি। অপরদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সতর্ক করা হলো নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন জলিলকে।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে নওগাঁ-১ আসনের জন্য নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও জয়পুরহাটের সহকারী জজ ইফতেখার শাহরিয়ার এ চিঠি পাঠান। একইদিন বিকেলে নিজাম উদ্দিন জলিলকে চিঠি পাঠিয়ে এ সতর্কবার্তা দেন নওগাঁ-৫ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রবিন শীষ।
আগামী ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি নওগাঁ-১-এর অস্থায়ী কার্যালয় নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাপাহার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এজলাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদারকে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ৪ ডিসেম্বর বেলা তিনটার দিকে পোরশা উপজেলার সারাইগাছি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কর্মী সমাবেশের আয়োজন করেন। এ বিষয়ে মো. খালেকুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির অভিযোগকারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সশরীর আদালতে গিয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালার ধারায় বলা আছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হবে। এর আগে ভোটের প্রচার চালানোর সুযোগ নেই।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে সাধন চন্দ্র মজুমদার নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির আবুল কালাম আজাদ।
নওগাঁ-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা আক্তার বলেন, ‘৪ ডিসেম্বর পোরশার সারাইগাছিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সমাবেশ করার অভিযোগ নিয়ে আসেন এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তিকে আমিই নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির নম্বর ও ঠিকানা দিয়েছিলাম। প্রতীক বরাদ্দের আগপর্যন্ত নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটিই আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’
এদিকে নওগাঁ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিজাম উদ্দিন ৮ ডিসেম্বর নওগাঁ পৌরসভার চকএনায়েত হিরো টাউন দারুস সালাম জামে মসজিদের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। একই দিনে তিনি উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের মাতাসাগর হাটে নির্বাচনী জনসভা করেন, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার (২০০৮) লঙ্ঘন। এ জন্য তাকে সতর্ক করা হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রার্থীর কাছে কোনো ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়নি। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর করা লিখিত অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজাম উদ্দিনের সভা-সমাবেশের ছবি ও ভিডিও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এ চিঠি দেন।
নওগাঁ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী নির্বাচনী বিধি মেনেই এলাকায় অবস্থান করছেন। প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা চিঠি দিয়েছে।’
চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. গোলাম মওলা বলেন, ‘নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ ও সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে আমরা কাজ করছি। প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা নির্বাচনী অনুসন্ধানী কমিটিও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
সময়ের আলো/আরআই