মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মিশ্র চাষ পদ্ধতি। গ্রামের পর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন এ মিশ্র চাষ।
কৃষকরা বাম্পার ফলনও পাচ্ছেন এই চাষ পদ্ধতিতে। একই জমিতে দুই-তিন ধরনের ফসল চাষে একদিকে যেমন খরচ কম হচ্ছে, তেমনি মিলছে অধিক ফসল। ফলে মুনাফা বেড়েছে দ্বিগুণ। যে কারণে ঘিওরের বহু কৃষক ঝুঁকছেন নতুন এই মিশ্র চাষে। উন্নত জাতের আলুর সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে কৃষকরা বেশি আবাদ করছেন মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, ধনিয়াসহ অন্যান্য ফসল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় আলু আবাদ হয়েছে ৪৬০ হেক্টর জমিতে। এর সঙ্গে ৭০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া এবং ৪০ হেক্টর জমিতে অন্যান্য সবজির মিশ্র চাষ হয়েছে। একই জমিতে একই সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া, ধনিয়াসহ অন্যান্য ফসলের মিশ্র চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। মিশ্র চাষে কম খরচে ভালো ফলন পেতে আমরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।
জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মিশ্র চাষ। উপজেলার সাত ইউনিয়নের কৃষকরাই এখন মিশ্র চাষে ঝুঁকছেন। এক খরচে দুই ফসল আবাদে লাভের মুখ দেখছেন প্রান্তিক কৃষকরা। আর এতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীও হয়েছেন তারা।
সরেজমিন দেখা যায়, কৃষকরা ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, দেশীয় জাতের লাল পাকড়ি আলু চাষ করছেন। ক্ষেতে আলু বীজ রোপণের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, ধনিয়া পাতা ও আইল ঘেঁষে টমেটো আর রসুন আবাদ করেছেন।
কথা হয় বালিয়াখোড়া গ্রামের কৃষক রহমান মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, ৬৫ শতাংশ জমিতে আলুর চারা রোপণ করেছি। খরচ হয়েছে ৬৮ হাজার টাকা। সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ায় বাড়তি আয় হয়। লকিব বাড়ি গ্রামের রফিকুল বলেন, জমির আইল বরাবর ধনিয়া পাতা ও ওপরে মাচা করে শিম, শসা, লাউ ও বরবটি গাছ রোপণ করেছি। ইতিমধ্যে শসা বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছি।
সময়ের আলো/জেডআই