আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গঠন করা নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন নাটোর জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে নাটোর-২ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ও সহকারী জজ মোসা. শারমিন খাতুন কাছে স্বশরীরে হাজির হয়ে তিনি এ ব্যাপারে লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
এর আগে সোমবার সকালে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী শফিকুল ইসলামের কর্মী, নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিয়াজুল ইসলামকে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে চিঠি দেন নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি এবং চিঠি দিয়ে কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধির ১১ (ক) ও ১২ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে ব্যাপারে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেন।
চিঠিতে রিয়াজুল ইসলামকে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার সময় স্বশরীরে কমিটির সামনে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রিয়াজুল ইসলাম মাসুমের বিরুদ্ধে নাটোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আহাদ আলী সরকারকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে বলার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া তিনি যারা নৌকার পক্ষে নেই, তাদেরও হুমকিও দেন।
চিঠি সূত্রে জানা যায়, রিয়াজুল ইসলাম ১৬ ডিসেম্বর সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী সভায় নৌকার প্রার্থী শফিকুল ইসলামের সমর্থক হিসেবে বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি বলেছেন, যারা শফিকুল ইসলামকে ভোট দেবেন না, তারা যেন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না হন। একই সময় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাদ আলী সরকারকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে বলেন।
রিয়াজুল তার বক্তব্যে আরো বলেন, ‘কেউ নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এমন জায়গায় মারব, কাউকে দেখাতে পারবেন না। এছাড়া যিনি বা যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে এজেন্ট দেবেন, তার বা তাদের পরিবারের কোনো ক্ষতি হলেও দায় নেবেন না। এই বক্তব্য তার নিজের ফেসবুক থেকে শেয়ার করা হয়। এ ছাড়া তার দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এসব কার্যক্রম নির্বাচনী আচরণবিধির ১১ (ক) ও ১২ ধারা লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির নজরে এলে আজ রিয়াজুলকে চিঠি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাকে স্বশরীরে হাজির হতে বলা হয়।
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম জানান, তার জানামতে রিয়াজুল ইসলাম নোটিশ পেয়ে নির্ধারিত সময়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর বাইরে তিনি বেশি কিছু জানেন না।
অনুসন্ধান কমিটির প্রধান মোসা. শারমিন খাতুন বলেন, রিয়াজুল ইসলাম মাসুম লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, গত ১৬ ডিসেম্বর সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নে বিজয় দিবসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ছিলেন। এটি কোন নির্বাচনী সভা ছিল না, সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যের জন্য তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছেন। আগামীতে এধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে তিনি বিরত থাকবেন।
অনুসন্ধান কমিটির প্রধান আরো বলেন, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে। তাই সব প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই