রাজনীতির চলমান পরিস্থিতিতে দুয়েক দিন করে বিরতি দিয়ে হরতাল-অবরোধ চলছে গত ২৯ অক্টোবর থেকে। হরতাল-অবরোধের দিনগুলোতে যানজট কিছুটা কম ছিল রাজধানীর সড়কগুলোতে। তবে মঙ্গলবার হরতালের মধ্যেই রাজধানীর প্রতিটি সড়কেই দেখা গেছে যানজট। কোথাও কিছুটা কম হলেও কোনো কোনো সড়কে দেখা গেছে তীব্র যানজট। ফলে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয় নগরবাসীকে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় ‘বিজয় শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ করেন। এর সঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা বিজয় শোভাযাত্রায় নিজেদের প্রচারণায় নামেন। কেউ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, কেউ পিকআপ ভ্যানের বহর নিয়ে গান-বাদ্য বাজিয়ে, আবার কেউবা শত শত নেতাকর্মীর মিছিল নিয়ে আসেন। এতে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শোভাযাত্রায় আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড় ও সঙ্গে আনা যানবাহনের কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্কের আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শাহবাগ এলাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, দুপুরের আগেই মৎস্য ভবন এলাকার সামনে থেকে শাহবাগ পর্যন্ত মাওলানা ভাসানী সড়ক, শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত শাহবাগ সড়ক, কাকরাইল মসজিদ থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত কাকরাইল সড়ক, শেরাটন হোটেলের মোড় থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সড়ক ও সায়েন্স ল্যাব থেকে ধানমন্ডির দিকে মিরপুর সড়কে যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকার পরে যাত্রীদের রিকশা, সিএনজি ও বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়। শোভাযাত্রা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার জন্য অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেন।
জিরো পয়েন্টের যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থেকে বিরক্ত হয়ে এক যাত্রী হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। ফার্মগেটে যাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে দুই ঘণ্টায় গুলিস্তানে এসেছেন। নিরুপায় হয়ে হাঁটা শুরু করেছেন। বারডেম জেনারেল হাসপাতালে ৬০ বছর বয়সি মানিক তালুকদার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গেন্ডারিয়ায় বাসায় ফিরতে গিয়ে বাস, রিকশা, সিএনজি কিছুই পাননি। পরে বাধ্য হয়েই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটা শুরু করেন। শাহবাগ এলাকার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে কুমিল্লা থেকে এসে বেকায়দায় পড়েছেন রব্বানি মৃধা। তিনি বলেন, পল্টন এলাকা এক ঘণ্টার মতো বাসে আটকে ছিলেন। সেখান থেকে হাঁটা শুরু করেন। রাস্তায় শুধু মিছিল আর মানুষ। যাওয়ার মতো কিছু পাচ্ছেন না। দুই ঘণ্টা শুধু মৎস্য ভবন মোড়ে বাসে আটকে ছিলেন মাহফুজ আহমেদ। তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধ, রিকশা-বাস কিছুই চলে না। সবদিকে শুধু মিছিল আর মানুষ। রাজধানী হিসেবে ঢাকা খুব বাজে শহর। সড়কে কেউ কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না।
দুপুরে শাহবাগ মোড়েও দেখা যায় কোনো যানবাহন ট্রাফিক নিয়ম মানছে না। যে যার মতো চলছে। মোড়ে যানবাহনের বড় জটলা। এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকেন যাত্রীরা। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হরতাল হলেও সড়কে যানবাহনের চাপ এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে শত শত নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন, আসছেন। সব মিলিয়ে এ এলাকায় যানজট পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
সময়ের আলো/আরএস/