ঝালকাঠি-১ সংসদীয় আসনে নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম বলেছেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জু ১৯৭৪ সালে আমাকে কেসে ঢুকিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ভুল বুঝিয়ে আমার চাকরী ডিসমিস করেছিলো। আমি তখন খুব বিপদগ্রস্ত। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর আমাকে বললো আমার দল করো। তখন আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত ছিলো না। তবে সেই বিপদে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, আমির হোসেন আমু ও আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ আমার জন্য লাফিয়ে পড়েছিলো। যার জন্য আমি টিকে আছি, তা না হলে আমার অনেক আগে জেল হয়ে যেতো। আব্দুর রব সেরনিয়াবাত তার বাসায় ডিস্ট্রিক জজকে ডেকে এনে আমার জামিন করিয়েছে, প্রকাশ্যে বললাম। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ জেলে বার বার আমার সাথে দেখা করেছে। এগুলো আমি স্মরণ করি।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় বরিশাল নগরীর কবি জীবনানন্দ দাশ সড়কস্থ ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর বাসভবনে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিককে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, জিয়ার সময় আমি এমপি হলাম। আর এরশাদকে আমি ঘৃণা করি। পাকিস্তান আর্মিতে যে সকল বাঙালী অফিসার এই দেশে আসতে চেয়েছিলো বা এই দেশের পক্ষে কথা বলছিলো তাদের বিচার করার জন্য কোর্ট মার্শাল করা হয়েছে আর সেই কোর্টের চেয়ারম্যান ছিলো লেফট্যানেন্ট কর্নেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সময় একটি আইন পাশ হয়েছিলো যে পাকিস্তান থেকে যদি কোনো আর্মি অফিসার দেশে এসে মুক্তিযুদ্ধে সামিল না হয় তাহলে তার চাকরী চলে যাবে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একমাত্র ব্যক্তি যে ৭১ এ দেশে এসে যুদ্ধ না করে চলে গেছে। আবার তাকে চাকরীতেও বহাল রাখা হয়েছে জেনারেল ওসমানীর কারণে। এই কারণে আমি এরশাদ ও জাতীয় পার্টি যারা করে তাদেরও ঘৃণা করি।
শাহজাহান ওমর আমির হোসেন আমুকে দেখিয়ে বলেন, ১৯৯০ সালে আমার এই নেতা আমাকে নিয়ে শেখ হাসিনার কাছে গিয়েছিলেন তখন নেত্রী মুচকি হেসে বললো এক প্রার্থী এসেছে যে আমার (শেখ হাসিনা) বাবার বাল্যবন্ধু মরহুম কুদ্দুস সাহেব। তাকে তো ওয়াদা করেছি। তখন আমি বললাম আমু ভাই আমি কি করবো তখন আমু ভাই বললো যেখানে আছো সেখানেই থাকো। এই আমু ভাই কিন্তু আমাকে আবার বিএনপিতে পাঠায়, দোষ কিন্তু আমার না।
আমি বিএনপিতে ২৯ তারিখ পর্যন্ত ছিলাম। ৩০ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমার বাসায় ফোন আসলো প্রধানমন্ত্রী আমার সাথে দেখা করতে চায়। হাতে সময় অল্প, স্ত্রীকে জানিয়ে রওনা হলাম। আমি গেলাম, যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘বসেন কমান্ডার’, আপনি আমার দল করেন। আমি বললাম করতে পারি এক শর্তে, ১৫ আগস্ট আপনার তিন ভাই শহীদ হয়েছে। আপনি যদি আমাকে চতুর্থ ভাই হিসেবে গ্রহণ করেন তাহলে। এরপর বললেন দস্তখত করেন, দস্তখত করলাম, আওয়ামী লীগে যোগ দিলাম, টিকেট দিয়ে দিলো নিয়ে চলে আসলাম। এরপর আমু ভাই ও হাসনাত ভাইর সাথে যোগাযোগ করি। তখন আমু ভাই বললো আমি সব জানি আমাকে সকাল বেলা জিজ্ঞাসা করেছে নেত্রী।
নিজেকে আওয়ামী লীগের সর্বকনিষ্ঠ দাবী করে তিনি বলেন, আমার আগের যা দলবল ছিলো সব নিয়ে আওয়ামী লীগের যোগদান করেছি। রাজাপুর গুটিকয়েক নাবালক ছেলে আছে ওরাও এসে যাবে এটা কোনো ঘটনা না। আর না আসলে কিভাবে আনতে হয় সে ওয়ে আমার জানা আছে, এতে কোনো গায়ের জোড় লাগবে না। রাজাপুর কাঁঠালিয়ায় আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো পার্টি থাকবে না। আমাদের যোগ্যতায় আমাদের কোয়ালিটি ও আদর্শে তাদের আমরা আওয়ামী লীগে কনভার্ট করবো।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়ে শাহজাহান ওমর কাউকে গুরুত্ব দেয়না বলে জানান। দল বদলের বিষয় জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘ডোন্ট সে দ্যাট’। এটা আমার সাংবিধানিক অধিকার। সেখানে কোথাও আছে নাকি দল চেঞ্জ করা যাবে না। বরিশালে সবচেয়ে বড় রাজনীতিবিদ শের ই বাংলা একে ফজলুল হক, সে প্রথমে কংগ্রেস করেছে, তারপর মুসলিম লীগ, কেএসপি এবং শেষে যুক্তফ্রন্ট। শের ই বাংলা দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে, শিক্ষার স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে এটা করতে পারে তাহলে আমি তো একটা চুনোপুঁটি।
রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই নির্বাচনের সব কিছু কন্ট্রোল করবেন জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা বানিয়ে ঠানিয়ে যা লেখেন তা সত্য নাকি? আমি বলি ক আপনারা খ গ মিলিয়ে একটা প্রবন্ধ লেখেন। এখানে রাজাপুরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এখানে, আমির হোসেন আমু ভাই এখানে, জেলা নেতৃবৃন্দ এখানে রয়েছেন তাহলে বর্জন করলো কে। আমি বর্জনের লোক? ওরা তো কৃতার্থ, ওদের দলকে আমি গৌরবান্বিত করেছি, অলংকৃত করেছি। ওরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে, বর্জন করার প্রশ্নই ওঠে না।
পরবর্তীতে তিনি আবার দল পরিবর্তন করবেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ। আই অ্যাম এ ফ্রিডম ফাইটার, আই ফট ফর দিস কান্ট্রি। আমি তিন বার গুলি খেয়েছি। আমার তো সংগ্রামী চেতনা। আমার চেতনা তো অন্য লাইনে হতে পারে না। এই বেসিক জিনিসটা আপনারা কেন বোঝেন না। গুরু (আমু) তো বললো আমি জয় বাংলার লোক, কতবার বলবো। তার সাথের লোক ৬৪ থেকে তার সাথে অদ্যাবধি আছি। আমার বিপদের সময় তারা সাহায্য করেছে, তারা যখন বিপদে পড়েছে তখন আমার লিমিটেড সোর্সে চেষ্টা করেছি প্রটেকশন দেওয়ার জন্য।
এসময় ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম পনিরসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আরআই