ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় জনগণের জানমাল রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে সিটি এনএসআই ও র্যাব। এনএসআইর ১২ জন এবং র্যাবের ৫০ জন সদস্য রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তায় চৌকস নজরদারিতে নিয়োজিত রয়েছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং সঙ্গে বহনকৃত ব্যাগ তল্লাশি চালানো হবে, যাতে দুষ্কৃতিকারীরা কোনো প্রকারের দাহ্য পদার্থ এবং অবৈধ মালামাল বহন করতে না পারে।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা জোরদারকরণ বিষয়ক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, দুষ্কৃতিকারীরা কোনো অবস্থাতেই যেন কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান করতে না পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক টহল ও রোবাস্ট পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দার মাধ্যমে ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতাকারীদের ওপর কঠিন নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানী র্যাব-৩ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ২৮ অক্টোবর হতে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে হরতাল ও অবরোধের নামে সাধারণ মানুষের ওপর বোমা হামলা, গাড়িতে অগ্নি সংযোগ, পেট্রোল বোমা ও ট্রেনে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, টাঙ্গাইলে কমিউটার ট্রেনে, মৌলভীবাজারে পারাবত ট্রেনে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে দেশের জনসাধারণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে নাশকতা করার অপচেষ্টা চলছে।
গত ২৮ অক্টোবর হতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ, গাড়িতে বোমা হামলা ও বিভিন্ন এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা বিপুল সংখ্যক চাঞ্চল্যকর নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তারসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের মানুষের নিকট সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
সময়ের আলো/জিকে