হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দেওয়া এম মোখলেসুর রহমানের (চিতল মোখলেছ) উপর আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তিনি আত্মরক্ষার্থে একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চুনারুঘাট পৌর শহরে এ ঘটনা ঘটে ।
জানা যায়, স্থানীয় একটি স্কুল মাঠে নৌকার জনসভা শেষে মিছিল নিয়ে পৌর শহরে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ও নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। এসময় এম মোখলেসুর রহমান জনসভায় লোকজন কম, নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম বলে ফেসবুকে লাইভ করেন। সন্ধ্যার দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া করলে তিনি একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন।
তবে এ বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। নৌকা সমর্থিত নেতাকর্মীরা জানান, এম মোখলেসুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সমর্থক। এজন্য সে ফেসবুকে নৌকা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আমাদের এত বড় জনসভা, হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি। কিন্তু মোখলেসুর রহমান ফেসবুকে মানুষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলছে, কয়েকশো মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে। জনসভা শেষে আমরা তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাই। তার সাথে আমাদের কোন ধরনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি। এসব সে অভিনয় করছে।
তবে মোখলেসুর রহমান জানান, আমি ফেসবুক লাইভ করার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার উপর হামলা চালায়। এ সময় আমি আত্মরক্ষার্থে একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেই।
এবিষয়ে উপজেলা তাতী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ কবির মিয়া খন্দকার জানান, জনসভায় গিয়ে সে ফেসবুক লাইভে মানুষকে ভুল তথ্য দিচ্ছে। এসময় একজন কর্মী তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার সাথে বাঁধানোবাদ বাদে। হামলার বিষয়টি সাজানো নাটক।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লুল রায় জানান, মোখলেসুর রহমান ফেসবুক লাইভে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কারণ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এক কর্মী তার কাছে জানতে চায়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোখলেসুর রহমানকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয় নাই।
সময়ের আলো/আরআই