সপ্তাহ জুড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সারাদেশ

দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। সপ্তাহ জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ জেলায়। হিমালয় পর্বত কাছে হওয়ায় হাড়কাপানো কনকনে

2023-12-22T18:08:41+00:00
2023-12-22T18:08:41+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সপ্তাহ জুড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৬:০৮ পিএম 
সপ্তাহ জুড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়
দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। সপ্তাহ জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ জেলায়। হিমালয় পর্বত কাছে হওয়ায় হাড়কাপানো কনকনে শীত। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তার প্রকোপ পড়েছে জেলা জুড়ে। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও ১২টা বাজাচ্ছে পৌষ। গত সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় একটানা সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সাথে বইছে হিমশীতল মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি।

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া উপজেলায়। সকালে প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত তিনদিন ধরেই এ অঞ্চলে বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ চলছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ আরো জানান, এক সপ্তাহ জুড়ে গত বৃহস্পতিবার ৯.৬, বুধবার ১০.১, মঙ্গলবার ৯.৫, সোমবার ৯.৭, রোববার ১০, শনিবার ৯.৪ সেলসিয়াস তাপমাত্রা সর্বনিম্ন রেকর্ড করা হয়েছে। ৯ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় এ অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে এতে করে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে।  

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই ভোরে আলোর কিরণ ছড়িয়ে দেখা মেলে সূর্যের। কিন্তু রোদ উঠলেও রাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে বরফঝরা শীত। গ্রামীণ জনপদে নিম্ন আয়ের মানুষরা শীত নিবারণ করছে খড়কুটো জ্বালিয়ে। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই সকাল সকাল কাজে যেতে দেখা যায় এ অঞ্চলে পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে নিম্ন আয়ের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষদের। 

এ অঞ্চলের গৃহিণীরা জানান, কুয়াশা না থাকলেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। রাতে বৃষ্টির ফোটার মতো শিশির ঝরা শব্দ শোনা যায়। ঘরের মেঝে থেকে শুরু করে আসবাবপত্র ও বিছানা পর্যন্ত বরফ হয়ে উঠে। সকালে গৃহস্থালি করতে গিয়ে কনকনে ঠাণ্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে।

চা শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা জানান, কুয়াশা নেই। তবে কনকনে শীত। ভোরে প্রচণ্ড হিমশীতের মধ্যেই তারা চা বাগানে পাতা তুলতে এসে হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। কিন্তু কী করবো, জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে। একই কথা বলেন নদীতে পাথর তুলতে যাওয়া শ্রমিকরা।

এদিকে হাড়কাপানো শীতের কারণে বিভিন্ন শীত জনিত রোগ ব্যাধি জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় অনেক শিশু। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে আউটডোরে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। চিকিৎসকরা শীত জনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন। 

জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রতি বছর এ জেলায় শীত বেশি থাকে। এবারও শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে শীতবস্ত্র চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত গরিব, অসহায় ও শীতার্তদের মধ্যে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   শীত মৌসুম  সর্বনিম্ন তাপমাত্রা  পঞ্চগড়  তেঁতুলিয়া 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: