নির্বাচনি ডামাডোলে ব্যস্ত থাকায় বর্তমান বাজারে প্রশাসনের অভিযান ও মনিটরিং অনেকটা শিথিল। এ সুযোগে চট্টগ্রামে ফের পেঁয়াজের বাজার অস্থির। পাইকারি ও খুচরা দুই ধরনের পেঁয়াজের দামই ঊর্ধ্বমুখী। গত এক সপ্তাহ ধরে ফের বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। বাজারে খুচরা পর্যায়ে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০-১১০ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। এ কারণে বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। আর ক্রেতাদের বরাবরের মতো অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে আবারও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। প্রশাসনও আগের মতো বাজার মনিটরিং করছে না।
খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মোহাম্মদ ইদরিস গতকাল সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম আবার বেড়েছে। কারণ ভারত থেকে আমদানি নেই। আর পুরোনো এলসির পেঁয়াজের সরবরাহও কম। গত দুদিনে সীমান্ত এলাকা থেকে খাতুনগঞ্জে চার ট্রাক পেঁয়াজও প্রবেশ করেনি। সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।’
ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারিতে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে দেশি পেঁয়াজের দাম কম। মজুদও পর্যাপ্ত। ফলে আমি মনে করি, ক্রেতাদের দেশি পেঁয়াজ কেনা উচিত।’
গতকাল সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব মুদি দোকানে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮৫-১১০ টাকা পর্যন্ত। মুড়িকাটা ছোট সাইজের পেঁয়াজের দাম কম। বড় সাইজের একটু বেশি। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি।
নগরীর অলিগলির মুদি দোকানে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে অভিযান চালানোর পর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ২২০ টাকা থেকে নেমে হয় ১২০-১৩০ টাকা কেজি। এতে ক্রেতা সাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফেরে। বর্তমানে নির্বাচনি ডামাডোলে প্রশাসন ব্যস্ত থাকায় এই সুযোগে সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে পেঁয়াজের গলা কাটা দাম নেওয়া হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এসএম নাজের হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ‘যেকোনো অজুহাতে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রশাসনের অভিযান শিথিল থাকার সুযোগে দাম বাড়ানো হচ্ছে। দেশে যথেষ্ট পেঁয়াজ মজুদ আছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক রানা দেব নাথ সময়ের আলোকে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমাদের অভিযান আগের মতো না হলেও অব্যাহত আছে। প্রয়োজনে নতুন করে অভিযান জোরদার করা হবে।’
দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ টন। উৎপাদন মৌসুমে সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩৪ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে এর প্রভাব নেই।
সময়ের আলো/জেডআই