মহাজোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, গত ১৫ বছরে ইনু অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজী, ঘুষ বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য করেনি। আমি যদি একটা টাকা চুরি ও ঘুষ খেয়ে থাকি, তাহলে কান কেটে আপনাকে দিয়ে দিবো। জাতির ও এলাকার স্বার্থে আমি আপনাদের সাথে আছি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ইনুকে নৌকা মার্কা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ দলগতভাবে নৌকার সমর্থন দিয়েছে। জাসদ ও আওয়ামী লীগ দুই ভাই। আমরা একসাথে আছি, একসাথে লড়বো।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌকার প্রার্থী হাসানুল হক ইনু দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, আমি ১৫ বছর এই অঞ্চলের মানুষের সাথে হাটছি চলছি। আমি আমার সাধ্যমতো এই এলাকার মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন করেছি, শান্তির পথ তৈরি করেছি। সবাই খুশি হবে আমি তা মনে করি না। দু’একজন গালি দিতেই পারে। তবে আমি গালি গায়ে মাখি না। কারণ হাজার হাজার মিরপুরবাসী আমার সাথে আছে। আমি উন্নয়ন করেছি। ১৫ বছর আগে ঘরে থেকে বের হলে পায়ে কাদা, সন্ধ্যায় ঘরে ফিরলে অন্ধকার ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য ছিল। ১৫ বছরের ব্যবধানে কাদা, অন্ধকার ও সন্ত্রাস নেই। পাকা রাস্তা হয়েছে, বিদ্যুতের আলো হয়েছে, সন্ত্রাস দমন করা হয়েছে। রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রামের বাজারে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে আড্ডা দেন, চা নাস্তা খান।
ইনু আরো বলেন, আমি জঙ্গি সন্ত্রাস চাই না, আগুন সন্ত্রাসী চাই না। বাংলাদেশে রাজাকার সমর্থিত সরকার চাই না। বিদেশের তাবেদার সরকার চাই না। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক এটা চাই। শেখ হাসিনার পাশে থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক সেজন্যই শেখ হাসিনার পাশে আছি। যদি শান্তি চান নৌকায় ভোট দিবেন। যদি মাস্তানি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি না চান তাহলে নৌকায় ভোট দিবেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এনামুল হক, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী জোয়ার্দার, কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাহার আলী, রুহুল আলম, সদরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম, পোড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জনপ্রতিনিধিরাসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আরআই