লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদর আংশিক) আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বংশগত ভাবে 'রাজাকার পরিবার' এর সদস্য বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী সেলিনা ইসলাম। নির্বাচনী প্রচারণাকাজে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি নয়নের ব্যাপক সমালোচনা করে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রায়পুরের মীরগঞ্জ এলাকায় ঈগল প্রতীকের প্রচারণা নৌকার লোকজন ভূন্ডল করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
এদিকে নির্বাচন আচরণ বিধির ১১ এর (ক) ধারায় বলা আছে- `নির্বাচনী প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করিয়া বক্তব্য বা কোন ধরনের তিক্ত বা উসকানীমূলক, মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করিতে পারিবে না।' কিন্তু সেলিনার এমন বক্তব্যে আচরণ বিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
মীরগঞ্জ বাজারে প্রচারণা কাজ সাময়িক ব্যাহত হওয়ায় সেলিনা ইসলাম নৌকা প্রতীকের নয়নকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি মনে করি উনি আসলে ভালো চায় না। কোন কিছুর মঙ্গল চায় না। নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন ভাই সরকার বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উনি মানুষকে ভোটমুখী করছে না। উনি চাচ্ছে আমাকে কিভাবে ঠেকানো যায়। উনার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে সেলিনার ঈগল ঠেকাচ্ছে।
এসময তিনি বলেন, মানুষ বলাবলি করছে- ওনারা বংশগতভাবে রাজাকার ফ্যামিলি থেকে আসছে। সবাই বলাবলি করে, আমি এ এলাকার বৌ। আমি তো জানি না। তার চোদ্দগুষ্টি নাকি রাজাকার ফ্যামিলি। এরকম মানুষ কিভাবে একটা দলে (আওয়ামী লীগ) কাজ করতে পারে? বঙ্গবন্ধুর দল পবিত্র দল, রক্তের বিনিময়ে এ দল পাইছে। এ দলে এ রকম মানুষ থাকা উচিত না, আমার মনে হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি সিডিউল দিয়ে পোগ্রামে আসছি। পূর্ব থেকে এখানে অন্য প্রার্থীর লোকজন ছিল। তারা আমাদের লোকজনকে ছিন্নভিন্ন করে দিছে। আমরা প্রশাসনকে ফোন দিলাম, প্রশাসন আসছে। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে।
এসময় সেলিনা ইসলাম বলেন, নৌকার প্রার্থী ছাত্রলীগের পোলাপানকে অপব্যবহার করিয়েছেন। তারা এসে আমাদের পুরো কার্যক্রমকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আমাদের লোকজনকে ধাক্কাধাক্কি করেছে। প্রশাসন কি করে দেখি, প্রশাসনের উপর সবকিছু।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে নৌকার প্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কুয়েতের কারাগারে বন্দি বহুল আলোচিত কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী এবং সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম। এ দুইজন প্রার্থী ছাড়াও আরও ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিনার নির্বাচনী প্রচারকাজ ব্যাহত এবং নৌকার প্রার্থী নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করার বিষয়ে জানতে শুক্রবার রাতে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহানের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সময়ের আলো/এএ/