দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫২ ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা জমে উঠেছে। সাধারণ জনগণ বলছে মূল লড়াই হবে নৌকা ও ট্রাকের মধ্যে। দুই প্রার্থীই শেষ মুহূর্তে জনগণের কাছে যাচ্ছেন দিচ্ছেন নানা আশ্বাস। চষে বেড়াচ্ছেন পুরো উপজেলা। নৌকার জয়ের বাধা এখন ট্রাক।
নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রুহুল আমীন মাদানীর পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মূল ভূমিকা রাখছেন। তার পক্ষে ভোট চাইতে সাধারণ জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন স্ত্রী, দুই ছেলে, পুত্রবধূ। পুরো উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্য নেতারাও। অপরদিকে নির্বাচনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবিএম আনিছুজ্জামান নির্বাচনের মাঠ গরম রেখেছেন। দল থেকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে একাধিক নেতাকর্মী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। সেই হিসেবে লড়াই হবে নৌকা ও ট্রাকের মাঝেই।
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীসহ তার সমর্থকরা ব্যস্ত সময় পার করলেও ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত বাড়াতে চেষ্টা করছেন সব প্রার্থীই। এ আসন নৌকার জন্য উর্বর হলেও এবার তার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাক। এছাড়াও এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল মজিদ লাঙ্গল নিয়ে। তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী ডা. আব্দুল মালেক সোনালী আশ নিয়ে লড়ছেন।
সাধারণ ভোটার বলছেন, এ আসনে চারজন প্রার্থী থাকলেও লড়াই হবে নৌকা ও ট্রাকের মাঝে। তবে দুই প্রার্থী পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তর্কে সাধারণ ভোটাররা মেতেছেন চায়ের স্টলে। ভোটাররা বলছেন, বর্তমান এমপি ১৯৯৬ সালে এমপি হয়ে অনেক উন্নয়ন করেছেন। ২০১৮ সালে এমপি হয়ে জনগণের জন্য তেমন উন্নয়ন করেনি। তাই এবার তারা ভোটের মাধ্যমে জবাব দিবে। অন্যদিকে বলছেন, ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছ তিনি সাড়ে বার বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করে পৌরসভায় উন্নয়ন করতে পারেনি। এমপি হয়ে কি উন্নয়ন করবেন? পৌরসভার মেইন রোড, ধানীখোলা রোড, পোড়াবাড়ী রোড সবই ভাঙ্গা। তাই নৌকাই আমাদের ভালো।
নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগ জনগণকে বলছে, জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৫ বছরে সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার ধারাবাহিকতা ত্রিশালেও বৃদ্ধ মান। দেশে আরও উন্নয়ন দেখতে হলে ও শেখ হাসিনাকে চতুর্থ বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে হলে জনগণকে নৌকায় ভোট দিতে হবে। ট্রাক শেখ হাসিনার মার্কা নয় নৌকা শেখ হাসিনার মার্কা। তাই উন্নয়নের মার্কা নৌকা। নৌকায় ভোট দিলে মাদানীর মাধ্যমেই ত্রিশালের উন্নয়ন হবে।
অপরদিকে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে থাকা উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল নয়ন বলছেন, নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে উল্টো কথা। তিনি তার বক্তব্যে বলছেন, বর্তমান এমপি পাঁচ বছরের মাঝে আওয়ামী লীগের কোন নেতার সাথে ভাল সম্পর্ক নেই। এখন জনগণ তার সাথে নাই। ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আনিছ প্রমাণিত একজন মানুষ। তিনি দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা থেকে প্রথম শ্রেণিতে রূপান্তর করেছেন। সেটি কিভাবে করেছেন? তিন তিনবার জনগণের ভোটে মেয়র হয়েছেন। ভাল কাজ করাই জনগণই তাকে তিনবার নির্বাচিত করেছে। তাই উন্নয়নের জন্য ট্রাক প্রতীকে ভোট চান তিনি।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রুহুল আমীন মাদানী এ আসনে ১৯৯৬ ও ২০১৮ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। তৃতীয় বারের মত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। এ আসন নৌকার জন্য উর্বর ভূমি নামে খ্যাত। এ আসনে নৌকার জয় সবচেয়ে বেশি। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন তিনবারের সাবেক মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান। তিনি প্রথমবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত হয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেও পরবর্তী দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নৌকাকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সে কখনো হারেনি। তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। নির্বাচনে জেতার আশায় তিনি মরিয়া।
এ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসন গঠিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ এখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৫৬ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৩৮ জন। ময়মনসিংহ-৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৪ জন।
বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রুহুল আমীন মাদানী বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়ে অবহেলিত ত্রিশালের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করার ফলে জনগণ আমাকে উন্নয়নের রূপকার উপাধি দেয়। পরবর্তী ১৫ বছর তেমন উন্নয়ন না হলেও একাদশ নির্বাচনে আমি আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সড়ক, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ ৯শত কোটি টাকার উপরে উন্নয়ন কাজ করেছি। পাঁচ বছরের মধ্যে আড়াই বছর করোনা থাকার কারণে একটু উন্নয়ন কম হয়েছে। আমি আশাবাদী এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কোন রাস্তায় কাঁচা থাকবে না। ত্রিশাল হবে স্মার্ট ত্রিশাল। ত্রিশালের মানুষ নৌকা পাগল, নৌকার জয় সুনিশ্চিত।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান বলেন, আমি নৌকার মনোনয়ন চেয়ে পাইনি। এ নির্বাচনে দলীয় কোন বিধি নিষেধ না থাকায় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছি। পৌরসভায় ১২ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করি। দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নত করেছি। আমার ত্রিশালবাসী অবহেলিত। আমি তাদের কথা দিয়েছি আপনাদের ভোটে যদি আমি এমপি নির্বাচিত হই ত্রিশালকে একটি স্মার্ট ত্রিশালে রূপান্তর করবো।
সময়ের আলো/আরআই