ত্রিশালে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে অনিয়ম
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৪:৪২ পিএম
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের নব-নির্মিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম । সময়ের আলো
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের নব-নির্মিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রশাসনিক ভবন ও হলরুমের নির্মাণকাজ শুরু হয় চলতি বছরের মার্চে। ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার কাজটি শেষ করার কথা ২০২৪ সালের জুন মাসে। এ ভবনের নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
কার্যাদেশ অনুযায়ী এ ভবনে যে মান ও মাপের রড, পাথর ও ইট-বালু ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে, তা ঠিকঠাক ব্যবহার করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন আগে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে ২০ মিলিমিটার রডের পরিবর্তে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহারের অনিয়ম পান উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। এসময় ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করে নির্মিত ১২টি আরসিসি পিলার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ ভবনের পাইলিং ও গ্রেড বিমের কাজ শেষ হয়ে চলছে নিচতলার আরসিসি পিলার নির্মাণকাজ। পুরো আরসিসি পিলার নির্মাণে ২০ মিলিমিটার রড ব্যবহারের কথা থাকলেও তিন ফুটের পর থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে ১৬ মিলিমিটার রড।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, নিম্নমানের পাথর, ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। রড ব্যবহারেও রয়েছে অনিয়ম। এ যেন প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে ঠিকাদার ডাকাতি করছে।
ভবনের নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদার নিয়োজিত সুপারভাইজার আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলছেন সেভাবেই করছি। পিলারে ২০ মিলিমিটার রড ব্যবহারের কথা থাকলেও ১৬ মিলিমিটার রড কেন ব্যবহার করছেন? এ প্রশ্নের জবাবে সুপারভাইজার আবদুল হান্নান বলেন, ভুল হয়ে গেছে। যেসব পিলারে ১৬ মিলিমিটার রড লাগানো হয়েছে তা খুলে ফেলা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান পাথর, ইট ও বালু ঠিক আছে দাবী করে বলেন, ভবনের ১২টি কলামে (পিলারে) ত্রুটি পাওয়া গেছে। তাই সেগুলো ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। অলরেডি ৯টি পিলার ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বাকী গুলোও ভাঙ্গা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং এর স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ বলেন, আমি অনিয়মের কথা শুনে উপজেলা প্রকৌশলীকে এ নির্মাণ কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে শোকোজ করতে বলা হয়েছে।